উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এর ডি ব্লকে আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। © সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরের দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এর ডি ব্লকে অবস্থিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাসের কার্যালয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কারিতাসের স্টোর কক্ষে রাখা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে ক্ষতির পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার মতো ধারণা করা হচ্ছে।
জানা যায়, রবিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ ক্যাম্প-৪ এর ডি ব্লক এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জানানো হলে সবাই মিলে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, ক্যাম্পে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। তাদের দ্রুত তৎপরতার কারণে আগুন আশপাশের বসতঘর বা স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তবে আগুনে কারিতাসের একটি স্টোর কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মালামাল সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এপিবিএন সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আগুন দ্রুত নেভানো সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
রোহিঙ্গা নেতা নুর আলম বলেন, ক্যাম্প-৪ এর ডি ব্লকে হঠাৎ করে আগুনের ধোঁয়া দেখা যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা এপিবিএন সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান।
তিনি জানান, আগুনে কারিতাসের একটি স্টোর কক্ষে রাখা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ঘনবসতি ও ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের কারণে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে সামান্য অসতর্কতা বা বৈদ্যুতিক ত্রুটিতেও দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ক্যাম্প এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করছে সংশ্লিষ্টরা।