এক্সকাভেটর অকেজো করে দিচ্ছেন সেনাসদস্যরা © টিডিসি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগে ৮টি এক্সকাভেটর ও ১৬টি ডাম্প ট্রাক বিকল করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে শাহাদাত হোসেন হৃদয় (২২) ও তপন দাশ (৪৫) নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার ঢেমশা ও নলুয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাঠানিপুল-সংলগ্ন নয়াখাল এলাকায় এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত হোসেন হৃদয় চন্দনাইশ উপজেলার বাগিচাহাট এলাকার মো আবুল হোসেনের ছেলে ও তপন দাশ একই উপজেলার দক্ষিণ গাছবাড়িয়া পালপাড়া এলাকার মুকুন্দ দাশের ছেলে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে মাটিখেকো হিসেবে পরিচিত মো. খোরশেদ ও ফরহাদ নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে রাতের আঁধারে পাঠানিপুল-সংলগ্ন নয়াখাল এলাকার কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছে, এমন খবর পেয়ে সাতকানিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান শামীম পারভেজের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী একটি টিম তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ৮টি এক্সকাভেটর ও ১৬টি ডাম্প ট্রাক রেখে পালিয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেগুলো বিকল করে দেন। এরপর ঘটনাস্থলের আশেপাশে তল্লাশি চালিয়ে শাহাদাত হোসেন হৃদয় ও তপন দাশকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাদের ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে মো. খোরশেদের ফোনে যোগাযোগ করা হলে শুরুতে সেনাবাহিনী কর্তৃক তার মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটর ও ডাম্প ট্রাক বিকল করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করলেও পরে ঘুম থেকে উঠে বিস্তারিত জানাবেন বলে কল কেটে দেন।
পরবর্তী সময়ে ফরহাদের ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাটি কাটার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
সাতকানিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান শামীম পারভেজ বলেন, ‘আটক দুই ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাটি কাটার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। স্থানীয় মো. খোরশেদ ও ফরহাদ নামের দুজন এ পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ ছাড়াও ঘটনাস্থলেই ৮টি এক্সকাভেটর ও ১৬টি ডাম্প ট্রাক বিকল করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাটিখেকোরা বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ম্যানেজ হয়ে গেছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে। এমন গুজব ছড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয়রা যাতে সেনাবাহিনী কিংবা প্রশাসনকে মাটি কাটার বিষয়ে খবর না দেয়। এসব গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’