প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খাসজমিতে আড়ত, দেখেও দেখছে না কর্তৃপক্ষ

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৩ PM
খাসজমি দখল করে আড়ত দেওয়া হয়েছে

খাসজমি দখল করে আড়ত দেওয়া হয়েছে © টিডিসি

যশোরের শার্শা উপজেলায় সরকারি খাসজমি দখল যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দখল শুরু হয় প্রকাশ্যেই, মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোকজন এসে ‘বন্ধ’ করার নির্দেশ দেন, কিন্তু কিছুদিন না যেতেই সেখানে স্থায়ী স্থাপনা দাঁড়িয়ে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—নির্দেশই যদি শেষ কথা হয়, বাস্তবায়ন করবে কে?

উপজেলার বাগুড়ী বেলতলা আম বাজারসংলগ্ন নাভারণ-সাতক্ষীরা সড়কের পশ্চিম পাশে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন একটি খাসজমি দখল করে আমের আড়ত নির্মাণ করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহাজান কবির পন্ডিত এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাগুড়ী মৌজার প্রধান সড়কের পাশে জেলা পরিষদের বেশ কিছু জমি রয়েছে, যা বছরের পর বছর ধরে একটু একটু করে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় প্রভাবশালী মহল কিংবা কাগজপত্রের ফাঁকফোকর দেখিয়ে দখলদাররা স্থাপনা তুলে ফেলেন।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই জায়গা ঘিরে ইটের দেয়াল ও পিলার তোলা হয়েছে। ওপরের অংশে টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ প্রায় শেষ। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় চার শতক জমির ওপর এ স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, শুরুতে প্রশাসনের নড়াচড়া দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত আর কিছুই হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা নিজের চোখে দেখেছি জায়গাটা সরকারি। যখন কাজ শুরু হয়, তখন বন্ধও করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখি আবার কাজ শুরু, পরে তো পুরো ঘরই দাঁড়িয়ে গেল। তাহলে বন্ধের নির্দেশ দিল কার জন্য?’

আরেকজন বলেন, ‘এভাবে যদি সরকারি জমি একের পর এক চলে যায়, ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্তকরণ বা জনস্বার্থে কোনো কাজ করতে গেলে জায়গা কোথায় পাবে সরকার?’

অভিযোগ রয়েছে, অতীতেও বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে দখলের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে প্রভাব থাকলে সরকারি জায়গা দখল করাও কঠিন নয়।

অভিযুক্ত শাহাজান কবির পন্ডিত বলেন, তিনি মূলত নিজের জমিতেই ঘর নির্মাণ করছেন। তবে জেলা পরিষদের কিছু অংশ সঙ্গে যোগ হয়ে থাকতে পারে। জেলা পরিষদ নিষেধ করলে তিনি ঘর ভেঙে নেবেন বলেও দাবি করেন।

এ বিষয়ে কায়বা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না, এসিল্যান্ড অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম জানান, জেলা পরিষদের জায়গায় স্থাপনা না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি সেই নির্দেশ অমান্য করে কেউ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকারি জমি অবমুক্ত করা হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন রয়ে গেছে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রায়ই শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়? নিষেধাজ্ঞার পরও যদি রাতারাতি পিলার উঠে, টিনের ছাউনি বসে যায়, তাহলে দায়িত্ব কার?

সচেতন মহলের মতে, কেবল মৌখিক নির্দেশ নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে। নইলে ‘দখল–নির্দেশ–আবার দখল’—এই চক্র চলতেই থাকবে, আর খাস জমি হারাবে রাষ্ট্র।

নিজ জেলায় সড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
এরশাদের জন্ম না হলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হতো না: জাতীয় পার্টির…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের মিছিল—প্রতিহত করতে গিয়ে মার খেলেন বিএ…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
এআই অলিম্পিয়াড বিজয়ীদের ইচ্ছা পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৫৫ বছরের জিল্লু …
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence