রাধামর ছড়ার স্থায়ী বাঁধের অপেক্ষায় খাগড়াছড়ির ১৮০ পরিবার

২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২১ PM
বাঁধ মেরামতে কাজ করছেন স্থানীয়রা

বাঁধ মেরামতে কাজ করছেন স্থানীয়রা © টিডিসি

পাহাড়, ছড়া আর সবুজে ঘেরা খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়ন। অথচ এই প্রাকৃতিক প্রাচুর্যের মধ্যেই পানির অভাবে বছরের অর্ধেক সময় কৃষিজমি পড়ে থাকে অনাবাদি। বেলতলি পাড়া, হাপুংপাড়া ও খামারপাড়া এই তিনটি পাহাড়ি গ্রামে বসবাসরত প্রায় ১৮০টি পরিবার আজও তাকিয়ে আছে রাধামর ছড়ার স্থায়ী বাঁধের আশায়।

এই তিন গ্রামের মানুষের একমাত্র জীবিকা কৃষিকাজ। প্রায় ৫০ একর কৃষিজমিতে বর্ষা মৌসুমে আমন ধান চাষ হলেও শীত এলেই নিঃশব্দ হয়ে পড়ে মাঠ। কারণ একটাই-পানি সংকট,তীব্র পানির সংকট। রাধামর ছড়া নামের একটি ছোট পাহাড়ি ছড়া এই এলাকার একমাত্র পানির উৎস। বর্ষাকালে ছড়ায় পানির প্রবাহ থাকলেও শীত মৌসুমে পানি ধরে রাখার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় ব্যুরো ধান বা অন্য কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না।

নিজদের উদ্যোগে বাঁধ, কিন্তু টেকে না
পানির সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে মাটি, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ কিংবা সুইসগেট তৈরি করে আসছেন। শীতের শুরুতে পানি আটকে রেখে কোনো রকমে চাষাবাদ শুরু হলেও বর্ষা এলেই পাহাড়ি ঢলে সেই বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে বছরের পর বছর একই সংকট ঘুরে ফিরে আসে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের শুরুতেই ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ একসঙ্গে নেমে পড়েন ছড়ার পাড়ে। কেউ কাঁধে করে মাটি টানছেন, কেউ বাঁশ পুঁতে পানির প্রবাহ আটকে রাখার চেষ্টা করছেন। কষ্ট আর অনিশ্চয়তায় ভরা তাদের মুখের দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়,এই সংগ্রাম শুধু পানির জন্য নয়, টিকে থাকার জন্য।

ছয় মাস জমি পড়ে থাকে, বাড়ে অভাব
স্থানীয় কৃষকরা জানান, রাধামর ছড়ার পানি দীর্ঘদিন ধরে রাখা না যাওয়ায় বছরে ছয় মাসের বেশি সময় জমিতে কোনো ফসল উৎপাদন করা যায় না। ফলে অনেক পরিবারকে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাতে হয়। কাজ না থাকায় কেউ কেউ মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হন।

এক কৃষক হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের যদি একটা সরকারি স্থায়ী বাঁধ থাকত, তাহলে শীতকালেও ব্যুরো ধান চাষ করতে পারতাম। শুধু ধান না,সবজি, ভুট্টা, ডালও হতো। তখন আমাদের জীবনটাই বদলে যেত।’

স্থায়ী বাঁধ হলে বদলাতে পারে জীবনচিত্র
এলাকাবাসীর মতে, এই ১৮০ পরিবারের একমাত্র সম্বল এই কৃষিজমি। সারা বছর যদি পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতাও আসবে। পাহাড়ি এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়বে, কমবে দারিদ্র্য ও অভিবাসনের চাপ। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কোনো স্থায়ী সেচব্যবস্থা না থাকায় বছরের অর্ধেক সময় অনিশ্চয়তাই নিত্যসঙ্গী।

এলজিইডির বক্তব্যে ভিন্নতা
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খাগড়াছড়ির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান বলেন,“কৃষকরা নিজেরা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বর্ষায় পানি থাকলেও শীতকালে তীব্র সংকট দেখা দেয়। ক্ষুদ্রাকার পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এই এলাকাটিও পাইপলাইনে আছে। যাচাই-বাছাই করে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি দেখা হবে।”

তবে এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন,“বর্তমানে এলজিইডির আওতায় বাঁধ বা সুইসগেট নির্মাণের কোনো চলমান প্রকল্প নেই। পানি নিষ্কাশন সংক্রান্ত কিছু ‘ক্ষেত প্রকল্প’ পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও মহালছড়িতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।”

অপেক্ষা শুধু সরকারি উদ্যোগের
রাধামর ছড়ার পাড়ে দাঁড়িয়ে আজও কৃষকরা স্বপ্ন দেখেন একটি স্থায়ী বাঁধের,যে বাঁধ শীতের মাঠে প্রাণ ফিরিয়ে দেবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, আর ভাঙবে বছরের পর বছর ধরে চলা অভাবের চক্র। পাহাড়ি এই জনপদের মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই, সরকারি উদ্যোগ, যাতে তাদের ঘামে ভেজা মাঠ আর নিঃশব্দ না থাকে।

একটা চিৎকার শুনেছিলাম, কিন্তু বুঝতে পারিনি সেটা ছিল আমার মে…
  • ২১ মে ২০২৬
ঈদুল আজহার ছুটিতে মেট্রোরেল চলাচলে নতুন সময়সূচি
  • ২১ মে ২০২৬
শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাবি ছাত্রীসংস…
  • ২১ মে ২০২৬
যে বাগানের লিচু সবার জন্য উন্মুক্ত
  • ২১ মে ২০২৬
অর্থাভাবে চিকিৎসা চালানো সম্ভব নয়, ব্লাড ক্যান্সারে মৃত্যুর…
  • ২১ মে ২০২৬
হাম আক্রান্তদের জন্য গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ১০০ টাকায় অ…
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081