ব্যালট বাক্সগুলো সিল ও তালা দিয়ে বন্ধ করা হয় © সংগৃহীত
গাইবান্ধায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণে তৈরি ৪৬টি ব্যালট বাক্স আনুষ্ঠানিকভাবে তালাবদ্ধ হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে প্রার্থী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাক্সগুলো খুলে ভোট গণনা করা হবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে বাক্সগুলো সিল ও তালা দিয়ে বন্ধ করা হয়। এ সময় গাইবান্ধা-১ থেকে গাইবান্ধা-৫ আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্ট ও প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৫৭২ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ৩৭০ জন। তাদের ভোট সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ৪৬টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স। যা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ভবনের নিচতলায় চারটি এবং দ্বিতীয় তলায় একটি বিশেষ ভোট কক্ষে কড়া নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, দেশে প্রথমবারের মতো ওসিবি (আউট কান্ট্রি ভোটিং) ও আইসিপিবি (ইন কান্ট্রি পোস্টাল ব্যালট) পদ্ধতিতে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ডাক বিভাগ থেকে ব্যালট আসার পর বারকোড স্ক্যানার দিয়ে যাচাই করে নির্ধারিত বাক্সে রাখা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪:৩০ মিনিটে এজেন্টদের সামনেই বাক্স খুলে গণনা শুরু হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, দেশে প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতিতে প্রবাসী ও বিশেষ শ্রেণির ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ডাক বিভাগের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট আসার পর বারকোড স্ক্যানার দিয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিটি বাক্সে ৪০০ জন ভোটারের ব্যালট পেপার ধারণ করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সামনেই নির্ধারিত লক ও সিল দিয়ে বাক্সগুলো বন্ধ করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটায় প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে বাক্সগুলো খুলে ভোট গণনা করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাইবান্ধা-৩ আসনের এক প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রক্রিয়াটির প্রতি আমাদের আস্থা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ধাপে আমাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত রেকর্ডে স্বাক্ষরও দিয়েছি।’
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের মতে, গাইবান্ধায় পোস্টাল ব্যালটের এই বিস্তৃত প্রস্তুতি এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে সারা দেশে ডাকভোট প্রক্রিয়ার একটি রূপরেখা তৈরি করতে পারে। এটি একটি ডিজিটাল ও সুরক্ষিত ভোটিং চ্যানেল হিসেবে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।
বর্তমানে ব্যালট বাক্সগুলো বিশেষ কক্ষে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। ডাক বিভাগের মাধ্যমে ব্যালট পেপার আসা শুরু হলে তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাক্সে স্থানান্তর করা হবে। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।