আগুনে পুড়ছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোররুম আগুন © টিডিসি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানের ২৪ দিনের মাথায় রহস্যজনকভাবে সেই স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর রাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার স্টোররুমে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত জানা না গেলেও স্টোররুমে থাকা বেডশিট, কম্বল, ওষুধ, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ভোর রাত ৫টা ৪০ মিনিটে আগুনের সংবাদ পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সহায়তায় যোগ দেয়। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে স্টোররুমে সরাসরি প্রবেশ সম্ভব না হওয়ায় জানালার কাচ ভেঙে পানি দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সম্পূর্ণভাবে আগুন নির্বাপণে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। এ সময় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। স্টোররুমে সংরক্ষিত ওষুধ, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, কাগজপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ছিল। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুটি ইউনিট ও দুটি পাম্পসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। আগুনের কারণ এখনো জানা যায়নি, তদন্ত শেষে বলা যাবে। প্রয়োজন উর্ধতন কতৃপক্ষের তদন্ত লাগতে পারে।’
এদিকে ঘটনার পরপরই অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ঘটনার পরে সকাল থেকে হাসপাতালের আউটডোর সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল দুপুর পর্যন্ত। আগুন নির্বাপণের পানি হাসপাতালের মেঝেতে বিভিন্ন রুমে জমে ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল গলাচিপা পৌরসভার সহয়তা সরিয়ে নিতে কাজ করতে দেখা গেছে।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আমরা দেখেছি লিনেন সামগ্রীর একটি কক্ষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় একটি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি ক্ষয়ক্ষতিসহ ঘটনার সব দিক তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রদান করবে।’
উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে স্টোর রেজিস্ট্রারে ওষুধ মজুদের তথ্য ও সরবরাহের মধ্যে গরমিল পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের দেওয়া হচ্ছিল না বলে তারা তথ্য পায়। এছাড়া খাবারের মান, কর্মচারীদের হাজিরা ও সামগ্রিক সেবা কার্যক্রমে নানা অনিয়মের প্রমাণ পায় দুদক।
পটুয়াখালী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল লতিফ হাওলাদারের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী পরিচালক খালিদ হোসাইন। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
দুদক অভিযানের মাত্র ২৪ দিনের মাথায় সেই স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।