নিহত নারীর বাড়িতে স্থানীয় লোকজনের ভিড় © টিডিসি
ঝালকাঠিতে নিখোঁজের আট ঘণ্টা পর সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নিলুফা ইয়াসমিন (৫৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ানি) সকালে সুগন্ধা নদীর পাড়ে বাসাসংলগ্ন ঘাটলার পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত নিলুফা ইয়াসমিন ঝালকাঠি পৌরসভার খেয়াঘাট নতুন চর এলাকার বাসিন্দা। তিনি শুকুর মিয়ার স্ত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াসের মা। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে নিলুফা ইয়াসমিন নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা সারা রাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে সুগন্ধা নদীর পাড়ে বাসাসংলগ্ন ঘাটলার পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাদের অভিযোগ, মরদেহ উদ্ধারের সময় নিলুফা ইয়াসমিনের নাক ও কান থেকে স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, পানিতে পড়ে মৃত্যু হলে এত অল্প সময়ের মধ্যে মরদেহ ভেসে ওঠা স্বাভাবিক নয় বলেও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাদের ধারণা, ঘটনার পেছনে অপরাধমূলক কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।’
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে খেয়াঘাট এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।