ধরা চকরিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা © টিডিসি
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় চকরিয়া সুন্দরবন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক আলোচনা সভা, কার্যকরী কমিটি গঠন এবং সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) চকরিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধরার চকরিয়া কমিটির সহসভাপতি ও চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল মজিদ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ইসফাতুল হাসান ইসফাত।
চকরিয়া ধরার সভাপতি এ,কে,এম বেলাল উদ্দিন বলেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব, বাংলাদেশসহ বিশ্বদরবারে পরিবেশ আন্দোলনের মহানায়ক শরিফ জামিলের নেতৃত্বে পরিবেশ রক্ষায় আজ সামাজিক আন্দোলন পরিণত হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়া সুন্দরবন একসময় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বনভূমি ছিল, যা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে মানুষকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রদান করত। কিন্তু অপরিকল্পিত উন্নয়ন, দখল ও বন উজাড়ের ফলে আজ এই বন প্রায় বিলুপ্ত, যার ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
চকরিয়া সুন্দরবনের ধ্বংসের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। জীবিকা হারানো, নিরাপদ পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নারী ও শিশুর নিরাপত্তাহীনতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতায় বন পুনঃপ্রতিষ্ঠা কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়, বরং এটি মানবাধিকার—বিশেষ করে নারী ও শিশু অধিকার রক্ষার একটি অপরিহার্য শর্ত।
এমতাবস্থায়, জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চকরিয়া সুন্দরবনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উপকূলীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধার, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে কার্যকর অভিযোজন মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নারী ও শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও জীবিকা সুরক্ষায় আমাদের প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।
সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চকরিয়া সুন্দরবনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ,জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি হ্রাসে কার্যকর পরিকল্পনা ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে সিনিয়র সাংবাদিক বশির আল মামুনের সভাপতিত্বে ধরিত্রী রক্ষা, মেধা বিকাশ ও সাংবাদিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ৯ জানুয়ারি বিকেলে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সারা বাংলাদেশে স্যাপ আইডিয়া প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করায় মো. ইশফাতুল হাসান ইশফাতকে ও বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার, তথ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা কর্তৃক প্রেস এক্রিডিটেশন কার্ড (নং–৬৫৬১) অর্জন করায় ধরার চকরিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক যুগযুগান্তর, জে জে টিভির মোহাম্মদ ফরিদ-কে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে চকরিয়া সিটি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠিতা এমডি মোহাম্মদ আব্দুল গফুর মানিক, চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান জিসান, চকরিয়া উপজেলা মহিলা ক্ষুদ্র শিল্প সমিতির সভাপতি রুনা আক্তার, বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতির চকরিয়া শাখার মো. জিয়াবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. আশরাফ আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন, মমতা যুব মহিলা ক্লাব সভাপতি খুকি চৌধুরী, যুব রেডক্রিসেন্ট চকরিয়া সদস্য সুমাইয়া সোলতানা, সাংবাদিক সাঈদী আকবার ফয়সাল, নারী উদ্যক্তা শাহজাদী জাহান,শিক্ষার্থী নাজিফা জাহান নাহি, উদ্যোক্তা সো সো, ইউথ সদস্য এস,আই রুবেল, শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার পুতুল, নারী উদ্যোক্তা সেলিনা আক্তার, লক্ষ্যাচর মৎস্যজীবি মহিলা সমিতির সভাপতি শাহিনা বেগম, নারী নেত্রী রোজিনা আক্তার, শিক্ষার্থী মনি শীল, নারী উদ্যোক্তা কাকলী আক্তার, শিক্ষার্থী নাজিয়া জন্নাত, নারী উদ্যোক্তা জন্নতুন নেছা জিসান, নারী উদ্যোক্তা লাকি দাশ, সুজন সদস্য তানবীরুল ইসলাম, ঊষর আলো চকরিয়া শাখার সাংবাদিক নুরুল ইসলাম সুমন।
জেলে সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল আবছার ও জামাল উদ্দীন। এ ছাড়া স্থানীয় সাংবাদিক, সমাজসেবক, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।