গোপালগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই, অপেক্ষায় মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৫ PM
নতুন বই হাতে শিশুশিক্ষার্থীরা

নতুন বই হাতে শিশুশিক্ষার্থীরা © টিডিসি

নতুন বছরের প্রথম দিনেই বিদ্যালয়ে এসে নতুন পাঠ্যবইয়ের ঘ্রাণে উচ্ছ্বসিত গোপালগঞ্জের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। সকালে স্কুলে পৌঁছেই বই হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে কোমলমতিরা। তবে সেই আনন্দে পুরোপুরি শরিক হতে পারেনি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজন অনুযায়ী বই না পাওয়ায় অনেককে এখনো অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া এলাকার একাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সকাল ৯টা থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে দেখা যায় শিক্ষকদের। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হয় এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ শুরু হয়।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবরুল ইসলাম জানান, তাদের বিদ্যালয়ে শতভাগ বই পৌঁছেছে। সকল শিক্ষার্থী আজই সম্পূর্ণ বই পাবে। তিনি বলেন, এ বছর বই বিতরণকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিক উৎসব না করে রোল নম্বর অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ডেকে বই দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বইয়ের ছেঁড়া বা ছাপাজনিত কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা অভিভাবকসহ যাচাই করে নিতে বলা হচ্ছে। এতে কিছুটা সময় লাগছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। চাহিদার তুলনায় বই কম আসায় শিক্ষকরা কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কতটি বই দেওয়া যাবে—তা নিয়ে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখনো হাতে বই পায়নি।

টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কেউ ক্লাসে বসে গল্প করছে, কেউ আবার খেলাধুলায় সময় কাটাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, কখন বই দেওয়া হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। তবে শিক্ষকদের নির্দেশে তারা বিদ্যালয়েই অবস্থান করছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে বই বিতরণের রেজিস্টার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষকরা। কোন শ্রেণির কোন বিষয়ের কতটি বই এসেছে, তা হিসাব করে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানম বলেন, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই এলেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি বেশি। কেউ কম বই পেলে মন খারাপ করবে—এই বিষয়টি মাথায় রেখেই সবাইকে কীভাবে ন্যায্যভাবে বই দেওয়া যায়, সে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার ৮৬২টি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেজি স্কুলে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ বই বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে শতভাগ শিক্ষার্থী বই পেয়েছে।

অন্যদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ২০৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

গোপালগঞ্জের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, বছরের প্রথম দিনেই শতভাগ বই বিতরণ সম্ভব না হলেও দ্রুততার সঙ্গে সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় বই পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বই হাতে পাবে।

বিপিএল চলাকালেই আরেক তারকাকে দলে ভেড়াল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বদলি নিয়ে মাউশির চিঠি পায়নি মন্ত্রণালয়
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে স্বামীর হাত ফসকে গৃহবধূর মর্মান্তিক …
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের স্ত্রী আফরোজার বহুতল ভবনসহ জমি জব্দের…
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৫ সালে নগদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লেনদেন রেকর্ড
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
তাইওয়ান হতে পারে আপনার পছন্দের গন্তব্য
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!