ব্যানার সরাচ্ছেন বিএনপি নেতা © সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী টানেল চত্বর এলাকায় প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রবল সমালোচনার মুখে দলীয় ব্যানার ও ফেস্টুন সরাতে বাধ্য হয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন। জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধির অভিযোগে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদ ও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে তিনি নিজ নেতৃত্বে টানেল মোড় চত্বর থেকে ব্যানার–ফেস্টুন অপসারণে নামেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাত ১১টার দিকে টানেল চত্বরে রাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুনে দৃশ্যমানতা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুতগামী একটি দূরপাল্লার বাস মাইক্রোবাস চালক মো. সোহেলকে চাপা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক দলের ব্যানার ও ফেস্টুনের সমালোচনা তীব্র আকার ধারণ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের মন্তব্য পড়ে জানা যায়, দলীয় প্রচারণার নামে টানেল চত্বরের চারপাশ ব্যানারে ঢেকে ফেলা হয়েছিল, যা ওই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলে তিনি নিজ নেতৃত্বে ব্যানার সরানোর অভিযান শুরু করেন।
অভিযান চলাকালে লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা দেশকে নিরাপদ রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দুর্গাপূজা ও দলীয় কর্মসূচিকে সামনে রেখে টানেল এলাকায় প্রচুর ব্যানার লাগানো হয়েছিল, যা সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল। তাই আজ সেগুলো অপসারণ করছি।‘
তবে স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার পর তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে বিএনপির এই নেতা ‘বাধ্য হয়ে’ এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। দুর্ঘটনার আগে কিংবা সমালোচনা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দলীয় কোনো পক্ষ থেকে এসব ব্যানার সরানোর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, ‘টানেল এলাকায় অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যানার টানানো থাকায় পথচলাচলে দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। আমরা অনেকবার অনুরোধ করলেও কেউ তা সরায়নি।‘
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সরওয়ার মাসুদ, জাগির হোসেন, দিল মোহাম্মদ মঞ্জু, এম মনসুর উদ্দীন, আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আবদুল মঈন চৌধুরী ছোটন, মোহাম্মদ মামুন খান, উপজেলা বিএনপি নেতা নুরুল হুদা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব গাজী ফুরকান, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তৈয়ব মাহির, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল নেতা ইসমাইল বিন মনির, ছাত্রদল নেতা মোফাজ্জল হোসেন জুয়েল, আনোয়ারা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনসহ আরও অনেকে।