বিজয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় © টিডিসি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিজয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রীসহ একাধীক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এতে করে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে বদরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে ২০০৪ সালে নিয়োগ দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মরহুম মুফতি ওয়াক্কাসসহ একাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে গত ২০ বছরে বদরুজ্জামান বিদ্যালয়ে কখনও যোগদান বা উপস্থিত হননি। এমনকি শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনেকেই তার নাম পর্যন্ত শোনেননি।
বিষয়টি সম্প্রতি ‘দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসসহ’ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। ৩ জুন বদরুজ্জামানের বেতন-ভাতা স্থগিত করে খুলনা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অঞ্চলের উপপরিচালক এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও, এক মাস পেরিয়ে গেলেও সেটি এখনো জমা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাইন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ এবং এডহক কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এই জালিয়াতির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। এসব অভিযোগে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইনছার আলীসহ এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অপরদিক, গত ৪ জুন (বুধবার) বিজয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ ও দূর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে ওই গ্রামের জনৈক ফারুক হোসেন মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। যার অনুলিপি পাঠান হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক ও দুদুকসহ একাধিক দপ্তরে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক তাপন কুমার পাইন বিজয়রামপুর স্কুলে যোগদানের পর থেকে অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়া গড়ে তোলেন। ২০০৪ সালের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মরহুম মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস ও তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ইনছার আলীর স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতির করে ব্যাকডেটে বদরুজ্জামানকে সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান) হিসেবে যোগদান দেখিয়েছেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক তাপস পাইন। শুধু তাই নয়! ২০২৪ সালে সভাপতি ঝন্টু পাটোয়ারীর স্বাক্ষরিত যে রেজুলেশনে বদরুজ্জামানকে মূল প্যাটার্নে পদায়ন দেখানো হয়েছে সেই রেজুলেশনের সব স্বাক্ষরও জাল। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ের বতর্মান এডহক কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ এসব কাজে প্রশয় দিয়ে আসছেন।
বিষয়টি তোড়পাড়ের পর থেকে বিদ্যালয়ের বতর্মান প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাইন জনরোষ এড়াতে কথিক মেডিকেল ছুটিতে রয়েছে। তবে, তাকে দিনের বিভিন্ন সময় মনিরামপুর পৌর শহর ছাড়াও এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষক তাপস পাইন বিদ্যালয়ে নির্বিঘে যাওয়ার জন্য এলাকার কতিপয় ব্যক্তিদের সাথে মোটা অংকের চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন। জালিয়াতির সুষ্ট তদন্ত হলে তিনি ফেঁসে যাবেন এমন আশংখা মাথায় নিয়ে সংশ্লিষ্ঠ তদন্ত কর্তাদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব কারণে তদন্ত কাজের ধীরগতি বলে দাবী করেছেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ইনছার আলীসহ অভিযোগকারীরা।
মনিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম জিল্লুর রশিদ বলেন, যেহেতু তদন্ত কমিটির আহবায়ক জেলা শিক্ষা অফিসার। তিনি বিষয়টি নিয়ে এখনো কিছু বলেন নি। যে কারণে প্রতিবেদন দাখিল করতে ধীরগতি হচ্ছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর হোসেন বলেন, অচিরেই তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।