© সংগৃহীত
দীর্ঘ ৪০ বছর পর পুলিশের কনস্টেবল, সাব-ইনস্পেক্টর ও সার্জেন্ট পদে পুরোনো নিয়োগ বিধি সংস্কার করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কনস্টেবল পদে জব মার্কেট থেকে ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ প্রার্থী নিয়োগ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।
বুধবার (২৩ মার্চ) যশোর পুলিশ লাইন্সে খুলনা রেঞ্জের সব পুলিশ ইউনিটের বিভিন্ন পদবির অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
বেনজীর আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ পুলিশকেও উন্নত দেশের উপযোগী আধুনিক পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
পুলিশের আধুনিকায়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশে সর্বাধুনিক ট্যাকটিক্যাল বেল্ট, বডি ওর্ন ক্যামেরা যুক্ত হয়েছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে এবং জনগণকে উন্নত সেবা দিতে পুলিশের আধুনিকায়নে যা প্রয়োজন তাই করা হবে।
পুলিশে নিয়োগ পদ্ধতির সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর পর পুলিশের কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট পদে আগের নিয়োগ বিধি সংস্কার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কনস্টেবল পদে জব মার্কেট থেকে ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ প্রার্থী নিয়োগ করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান আছে।
আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে কোনো ক্রিমিনালের স্থান নেই। ক্রিমিনালের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, নিজেরা ক্রাইম করার জন্য নয়।
“আমরা নিজে ক্রাইম করব না, সিনিয়র-জুনিয়র কোনো সহকর্মীকে ক্রাইম করতে দিব না। কোনো পুলিশ সদস্য ক্রাইমের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে পুলিশ বাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হবে,” যোগ করেন তিনি।
এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে অমানবিক ও অপেশাদার আচরণ না করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।
করোনাকালে পুলিশের অবদানের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, করোনা মোকাবিলায় পুলিশ এক মুহূর্তের জন্যও দায়িত্ব পালনে পিছপা হয়নি। প্রথমদিকে পুলিশের সুরক্ষা সামগ্রী ছিল না, পিপিই ছিল না, তবুও পুলিশ দেশ ও জনগণের সেবায় প্রথম দিন থেকেই আত্মনিয়োগ করেছে। আমাদের ১০৬ জন সহকর্মী আত্মোৎসর্গ করেছেন। ২৭ হাজার পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। নিজেদের দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে পুলিশ মানুষকে সেবা দিয়েছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে প্রথম বুলেট নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে পুলিশ জনগণের আস্থা, ভালবাসা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। আবার করোনাকালে পুলিশ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জনগণের এ বিশ্বাস, আস্থা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের সবাইকে এ কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
যশোরে তিনি পুলিশ হাসপাতাল, ইনস্পেক্টর কোয়ার্টার, চৌগাছা, যশোর ও পুলিশ অফিসার্স মেস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন এবং যশোর জেলা পুলিশের মাল্টিপারপাস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।