চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। চলমান সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকাল আবারো শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি জানাচ্ছে সরকারি চাকরির ৩০ থেকে ৩৫ বাড়ানোর।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, এই আন্দোলনটি ২০১২ সাল থেকে চলে আসছে। আমরা অনেকবার রাজপথে আন্দোলন করছি কিন্তু কখন সাংঘর্ষিক আন্দোলন করেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি শুনছে না। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সুপারিশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দাবিটি মেনে নেওয়া হচ্ছে না অথচ বিশ্বের ১৬২টি দেশে ৩৫ বছর চাকরির বয়স।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য গত ২৭ জুন, ১০ সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সুপারিশ করে। কিন্তু তারপরও বয়স না বাড়ানোটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। দাবি আদায়ের লক্ষে আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় একই মোড়ে কর্মসূচি পালন করবে আন্দোলনকারীরা।
তাদের ভাষ্য, চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা ৩৫ বছর করে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না করা হবে ততদিন পযর্ন্ত আন্দোলন চলবে। আগামী মাসেও কর্মসূচি রয়েছে। এরপরও যদি দাবি না আদায় হয় আন্দোলন চলমান থাকবে।
এর আগে দাবি আদালয়ের লক্ষে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে টানা তিন দিনব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেন আন্দোলনকারীরা। সে সময় তারা বলেন, আন্দোলনে ডাকসুর সহ সভাপতি নুরুল হক নুর ও জিএস গোলাম রব্বানিসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দর সমর্থন রয়েছে। তারাও ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন। সেই কর্মসূচিকে সফল করতে ব্যাপক প্রচারণাও শুরু করেছেন আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীরা।
সর্বশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করে সংগঠনটি। তবে সেদিন পুলিশের বাঁধার কারণে সে কর্মসূচি সফল হয়নি। ওইদিন বাসাছাপ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেনসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এর আগে গত ১১ মার্চ চাকরিপ্রত্যাশীদের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি জানান। এ ব্যাপারটি বিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ করা হতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সেটা হলে না মানার সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এজন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার যৌক্তিকতা জনপ্রাশসন প্রতিমন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরেছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সংসদীয় কমিটি পাঁচবার চাকরির বয়স ৩৫ করার বিষয়টি সমর্থন করে সুপারিশ করেছে। তারপরও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে এ ব্যাপারে জানানো হলে সেসময় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন বলে চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।