এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন পালনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন রাজপথে অবস্থানকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা। সোমবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বসে তাদের আমরণ অনশন পালিত হবে বলে জানিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার।
সভাপতি বলেন, নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর বিনাবেতনে চাকরি করছেন। প্রায় সকলেই অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সকলেই বাধ্য হয়ে এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। অনেকের কাছে খাওয়ার অর্থটুকুও নেই। তারা শুধু ভাত কিনে পানি দিয়ে ক্ষুধা মিটাচ্ছেন। রাজপথে রাত কাটিয়ে দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেক নারী শিক্ষকও রয়েছেন।
এ কারণে জীবন-মরণ আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন উল্লেখ করে সংগঠনের সভাপতি বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে আন্দোলন করার পরও আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আগামীকাল (সোমবার) থেকে আমরা আমরণ অনশন পালন করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। শুধু তাই নয়, আমরণ অনশন পালনে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলেও স্যালাইন বা ডাক্তারি চিকিৎসাও না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আজ দুপুর ২ টায় কেন্দ্রীয় কমিটি বৈঠক করে এমন কঠিন আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা জানান, নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিও’র দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য কদম ফোয়ারা থেকে প্রেস ক্লাবের গেট পর্যন্ত রোদ, ধুলোবালি, মশার কামড় উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে ৩০তম বার দিবারাত্রি অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সারাদেশের সকল বেসরকারি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ১২-১৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নিয়েছেন এ আন্দোলনে।
তাদের এই টানা অবস্থানে ৫ম দিনে ১৫ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আন্দোলনের ২য় দিনে বরগুনা জেলার তালতলি উপজেলার শিক্ষক শৈলেন চন্দ্র মজুমদার (৫০) স্ট্রোক করে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সাল থেকে নন-এমপিও শিক্ষকরা একই দাবিতে ৩০তম আন্দোলন করছেন। দাবির মুখে ২০১০ সালে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হলেও এ থেকে বাদ পড়ে যায় পাঁচ হাজার ২৪২টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।