নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা চতুর্থ দিনের মতো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিক্ষক-কর্মচারীরা অবস্থান নেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।
সারাদেশের সকল বেসরকারি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ১২-১৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নিয়েছেন এ আন্দোলনে। তারা ঘোষণা দিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাবেন সে পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও কোনও কারণ ছাড়াই এমপিওভুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে কোনও অগ্রগতি নেই। সে জন্য দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীই কেবলমাত্র আমাদের অবলম্বন।
শিক্ষকরা জানান, গত বছরে ৭ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেটে এমপিওভুক্তির জন্য কোনও বরাদ্দ না থাকায় ১০ জুন থেকে টানা আন্দোলন শুরু করেন তারা। ৩২ দিনের মতো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট ও আমরণ অনশন করেন। এ নিয়ে সে বছর ১১ জুলাই তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নিয়ে অনলাইনে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদনও গ্রহণ করে। কিন্তু সে এক বছরেই অজানা কোন কারণে এমপিওভুক্তি হতে পারেননি।
সম্প্রতি আবার নতুন করে গত বুধবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে লক্ষ্য করে পদযাত্রা শুরু করেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। এতে পুলিশের বাঁধার মুখে পড়ে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
২০০৬ সাল থেকে নন-এমপিও শিক্ষকরা একই দাবিতে ৩০তম আন্দোলন করছেন। দাবির মুখে ২০১০ সালে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হলেও এ থেকে বাদ পড়ে যায় পাঁচ হাজার ২৪২টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।