স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এমপিওভুক্তির আশ্বাস বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান আন্দোলনরত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, এর আগে সরকার তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করা হোক। এদিকে অনেক শিক্ষক প্রচণ্ড গরম ও খাবারের অনিয়মের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটায় নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আজ (শুক্রবার) আমরা ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। তিনি আমাদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আমরা এর আগেও একই ধরনের আশ্বাস পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে কোন পদেক্ষেপ নেয়া হয়নি। আমরা চাই- প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আমাদের এ ব্যাপারে আশ্বাস দিলে আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করবো। তা না হলে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
তিনি আরও জানান, অবস্থানকারীর একজন শিক্ষক গতকাল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া আজ (শুক্রবার) দুপুরে একজন শিক্ষিকা স্ট্রোক করেছেন এবং তাকে বর্তমানে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানকারী শিক্ষকরা তাদের দাবিসংবলিত নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে প্রদর্শন করছেন। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে ‘সেভ আওয়ার চিলড্রেন’, ‘উই ওয়ান্ট এমপিও’, ‘আমাদের সংগ্রাম চলছে, চলবে’, ‘নন-এমপিও সংগ্রাম চলছে, চলবে’।
শিক্ষকরা জানান, গত ২০ মার্চ থেকে সারা দেশের পাঁচ হাজারের বেশি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এখানে অবস্থান করছেন। কিন্তু এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাননি তারা। দাবি আদায় না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা বলছেন, সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিকভাবে লিখিত কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান দিন-রাত সমানতালে চলবে। চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন হাসান। তিনি বুধবার থেকে এখানে অবস্থান করছেন।
এছাড়া, যশোর থেকে এসেছেন মুুমিনুর রহমান, তিনি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। মমিনুল জানান, প্রচণ্ড রোদে অবস্থান করা তাদের খুবই কষ্টকর। অনেকে ক্লান্ত হয়ে রাস্তায় শুয়ে পড়ছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের শোচনীয় অবস্থা বিবেচনা করবেন।
প্রসঙ্গত, এই শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে মানববন্ধন-অনশন-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব তাদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। তখন তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। অনশন ভেঙে তাঁদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে বলেছেন।