শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফাইল ফটো
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র বিতরণের পর হঠাৎ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করার ঘটনা ঘটেছে। হলের খাবার খেয়ে একদল শিক্ষার্থীর অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা (এজিইসি) বিভাগের লেভেল-৩, সেমিস্টার-১ এর এজিইসি ৩৩৩ কোর্সের পরীক্ষার কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হন এবং পরিদর্শকরা উত্তরপত্রও বিতরণ করে ফেলেন। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ আসায় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।
একাধিক পরীক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্ট রাতে আবাসিক হলগুলোতে জনপ্রতি ৬০ টাকার বিনিময়ে ফিস্টের আয়োজন করা হয়। ওই ফিস্টের খাবারের ডাল নিম্নমানের হওয়ায় রাত থেকেই একাধিক শিক্ষার্থী বমি ও পেটের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তুতি নিয়ে হলে ঢুকে খাতা হাতে পাওয়ার পরই পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসাটা মেনে নেওয়া কঠিন। এভাবে বারবার পরীক্ষাসূচি পরিবর্তন হলে একাডেমিক শৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন বলেন, পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী ফোনে অসুস্থতার কথা জানান। সময় স্বল্পতা ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক অসুবিধার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপাচার্যের পরামর্শে মানবিক কারণে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন অপরাজিতা-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার। তিনি দাবি করেন, তদারকির মধ্য দিয়েই মানসম্পন্ন খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং প্রশাসনও তা গ্রহণ করেছে। অসুস্থতার অভিযোগকে পরীক্ষা পেছানোর একটি কৌশল হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রশাসনের ভেতরেও তথ্যের গরমিল দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। পরে হল প্রভোস্টের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, তাদের কাছে খাবার নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ডিন পরীক্ষা বাতিল করার পরই বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। হাজারো শিক্ষার্থীর মধ্যে দু-একজনের ফুড পয়জনিং হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সাধারণত বড় কোনো অনুষ্ঠানের পরদিন পরীক্ষার তারিখ রাখা হয় না। ভুলবশতই হয়তো সেদিন পরীক্ষাটি রাখা হয়েছিল।