প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান © সংগৃহীত
গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের মাঠে পৌঁছে উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যয় হ্রাস এবং জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে গবেষণার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান।
শনিবার (২৭ জুন) ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি’ স্লোগানকে ধারণ করে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গাকৃবির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পরিচিতিকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেবল গবেষণাগার বা প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ থাকলে তার পূর্ণ মূল্যায়ন হয় না। প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন সেই উদ্ভাবন কৃষকের মাঠে পৌঁছে উৎপাদন বাড়ায়, ব্যয় কমায় এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এ জন্যই গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকে সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে এবং কৃষকের আস্থা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গবেষণার শক্তিতে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
সেমিনারের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাত এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে টেকসই কৃষি উন্নয়নকে আরও বেগবান করা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক ও সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
মূল প্রবন্ধে প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাত, আধুনিক উৎপাদন কৌশল, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্ভাবন এবং গবেষণাভিত্তিক অবদানের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি এসব প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, ফলন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সম্ভাবনার বিষয়েও আলোকপাত করেন।
সেমিনারে গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলার কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বদনিভাঙ্গা ও পাজুলিয়া গ্রামের ৪০ জন কৃষক-কৃষাণী, খামারি ও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। শেষ পর্বে কৃষকরা তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি এবং গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন।