গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় © লোগো
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) প্রো-ভিসি (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমানকে এই নিয়োগ দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই নিয়োগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (গাকৃবিশিস)।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ, স্থিতিশীলতা ও একাডেমিক অগ্রগতির কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে এ নিয়োগ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে প্রো-ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ শুক্রবার (১২ জুন) গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য বিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা এবং অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের প্রতি অবমূল্যায়ন উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ, গবেষণা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে এ নিয়োগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবেন। নেতৃবৃন্দ আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু শিক্ষক সমাজের সেই যৌক্তিক প্রত্যাশা উপেক্ষা করে নেওয়া বর্তমান সিদ্ধান্ত গভীর হতাশা ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। শেকৃবির এ অধ্যাপককে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির পর গাকৃবি শিক্ষক সমিতি এ সভা আয়োজন করেন।
কার্যনির্বাহী সভায় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম এ নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বের উপর হুমকিস্বরূপ উল্লেখ করে বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিবিধ র্যাঙ্কিংয়ে গাকৃবি জাতীয়ভাবে প্রথম এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে গৌরবময় অবস্থান নিশ্চিতে সক্ষম হয়েছে। তদুপরি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ খ্যাত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন অনেক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রয়েছেন। সে বাস্তবতায় প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে এর শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। সেই অবদান ও সক্ষমতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজকে ব্যথিত করে। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষকসমাজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করা উচিত।
শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক নিয়োগের বিষয় নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মপরিচয়, মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের সঙ্গেও সম্পর্কিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির সাথেও বেমানান। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।
এর আগে প্রো-ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮ (সংশোধিত আইন, ২০২৫)-এর ১২(১) ধারা ড. মো. জাহিদুর রহমানকে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে পাঁচ শর্তে নিয়োগ প্রদান করা হলো
পাঁচ শর্তের মধ্যে রয়েছে. প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ৪ বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যা পূর্বে ঘটে সেই সময় পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন; উপযুক্ত পদে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতনভাতাদি পাবেন; তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন; তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত ও ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।