আবাসন সংকট
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নির্মাণাধীন ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) প্রথম বর্ষের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী মানবেতর জীবনযাপন করছে। যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া বসবাসের ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকু নেই। রাত হলেই বসে মাদকের আসর। ফলে বাড়ছে চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ।
সূত্র মতে নির্মাণাধীন ১০ তলা কনভেনশন হলের পেছনে দুই তলাবিশিষ্ট টিএসসি ২০১৪ সালে নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এর বর্ধিত অংশের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় এটি শিক্ষার্থীদের কোনো কাজে ব্যবহৃত হয় না। ফলে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে পুরো এই ভবনটি। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া ভবনটিতে বসবাসের উপযোগী কোনো ব্যবস্থা নেই। অথচ এ পরিত্যক্ত ভবনের মেঝেতে গাদাগাদি করে দীর্ঘ ৯ মাস যাবৎ বসবাস করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের প্রথমবর্ষের কয়েকশ শিক্ষার্থী। আবাসান সংকট থাকায় তারা এ ভবনে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা যায়।
সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৬ থেকে ৭ মাস যাবৎ টিএসসির শৌচাগারের পানির লাইন বন্ধ রয়েছে। ফলে ছাত্রদের নিয়মিত শৌচকর্ম ও গোসল করার জন্য নিকটবর্তী নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলে যেতে হচ্ছে। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় শিক্ষার্থীরা মেঝেতে গাদাগাদি করে বিছানা পেতেছেন। কক্ষে নেই কোনো পড়ার টেবিল। চারপাশের দেয়ালে ছত্রাক ও পরগাছার আস্তরণ পড়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আবার কয়েক মাস ধরে টিএসসির ভেতর থেকে কোনো ময়লা পরিষ্কার না করায় নিচতলায় ও সিঁড়ির আশপাশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবেশে বসবাস করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেক শিক্ষার্থী। ডেঙ্গু, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভবনটি নির্মাণাধীন হওয়ায় এর নিচতলায় বহিরাগতদের আগমন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রতিদিন মাদকের আসর বসে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হল এবং এই ভবনে প্রতিদিনই চুরির ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যেই টিএসসির গণরুমে গত পাঁচ মাসে চুরি হয়েছে বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ ও মোবাইল সেট ।
প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে টিএসসিতে পানির লাইন ঠিক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যেই এটি সম্পন্ন করা হবে। তাছাড়া আগামী মাসের মধ্যেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।