মাছের ত্বক থেকে জেলাটিন তৈরি করলো বাকৃবি গবেষকরা

২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০৯ PM , আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩১ AM
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক © টিডিসি ফটো

দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ত্বক থেকে জেলাটিন নিষ্কাশন করে প্রাথমিক সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। এই জেলাটিন থেকে জেলি আইসক্রিম, জেলি ক্যান্ডি, জেলি পুডিং খাদ্যদ্রব্য উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষক দল। নিষ্কাশিত এই জিলাটিন থেকে একদিকে যেমন বিদেশ থেকে জেলাটিন আমদানির খরচ কমবে তেমনি মাছের ফেলে দেওয়া বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। গবেষক দলের প্রধান ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন গবেষণা সম্পর্কে এসব তথ্য দেন। পাঁচ সদস্যের গবেষক দলে ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাতেমা হক শিখা এবং স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত মো: রাকিবুল আলম, জান্নাতুল আফরিন ও রাশিদা আক্তার। 

অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন আরো বলেন, আমরা পাঙ্গাস, সামুদ্রিক পোয়া, ইল বা বাইন, শোল মাছের ফেলে দেওয়া ত্বক থেকে প্রাথমিক ভাবে জেলাটিন নিষ্কাশন করতে সক্ষম হয়েছি। পরে প্রাপ্ত এই জেলাটিন বাজারের বহুল ব্যবহৃত জেলাটিনের সাথে তুলনা করে এর বৈশিষ্ট্য, পানি ধারণ ক্ষমতা ও গলনাঙ্কের তুলনা করে এর মান যাচাই করেছি। পরে এই নিষ্কাশিত জেলাটিন দিয়ে আইসক্রিম, চকলেট ও পুডিং তৈরি করেছি। আমরা নিষ্কশিত জেলাটিনকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত জেলাটিনের সাথে তুলনা করে উচ্চতর গবেষণা করছি। ফলাফলে এসেছে যে কোন প্রজাতির মাছ থেকে উচ্চ গুণগত মান সম্পন্ন জেলাটিন পাওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মতো মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এই মৎস্যখাত ব্যবহার করে আমরা যদি আরো বৈদেশিক মুদ্রা আনতে চাই তাহলে আমাদের আরো ভালো মানের ও ধরণের নতুন পণ্য তৈরি করতে হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে যদি মাছের বাণিজ্যিক ফ্রোজেন ইন্ডাস্ট্রি বা ক্যানিং ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশের গড়ে ওঠে তাহলে তার থেকে মাছের উচ্ছিষ্ট ত্বকগুলা জেলাটিন নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার করতে সক্ষম হবো।

আরও পড়ুন: অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পরীক্ষা ৮ মার্চ

গবেষক অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন জানান, বাংলাদেশ ঔষুধ শিল্প ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে জেলাটিন আমদানি করে। তাই দেশেই যদি দেশীয় এসব মাছ থেকে জেলাটিন বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা হয় তবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন ছোট, বড় মাছের বাজারে উচ্ছিষ্ট অংশ যা বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয় তার একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হবে। এমনকি বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জেলাটিনের প্রধান উৎস গরু ও শূকর। তাই মাছ থেকে নিষ্কাশিত জেলাটিন খাদ্যপণ্যে ব্যবহার করা হলে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব হবে। 

গবেষণা বিষয়ে অধ্যাপক ড. ফাতেমা হক শিখা বলেন, মাছের উচ্ছিষ্ট থেকে উৎপাদিত এসব পণ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণে প্রোটিন আছে। এই প্রোটিন আমরা নষ্ট না করে একটি বিকল্প উপায় ব্যবহার করতে পারি। আমাদের চারপাশে দেখি প্রচুর পরিমাণে মাছের বর্জ্য ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো যেমন পরিবেশের ক্ষতি করে পরিবেশকে নষ্ট করে তেমনিভাবে মানুষের স্বাস্থ্যও নষ্ট করে। এইগুলো ব্যবহার করে যদি আমরা জেলাটিন তৈরি করতে পারি তাহলে একদিকে যেমন ধর্মীয় হালাল-হারামের বিষয়টা কমানো যাবে কর অপরদিকে পরিবেশকে সুরক্ষা প্রদান করা যাবে।

উল্লেখ্য, জেলাটিন এক ধরনের প্রোটিন উপাদান, যেটি কোলাজেন থেকে আগত। কোলাজেন প্রাকৃতিক প্রোটিন, যা স্তন্যপায়ী প্রাণীর রগ, অস্থিসন্ধি এবং কলায় উপস্থিত থাকে। খাদ্য হিসাবে জেলাটিন জেলি ডেজার্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ফল ও গোশত সংরক্ষণে এবং গুড়ো দুধ তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হয়। ঔষধের সিরাপ হিসাবে এটির ব্যবহার করা হয়। 

চুরি হওয়া গরু মিলল বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গভীর রাতে রাজধানীতে বাসে আগুন
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এসপি অফিস ঘেরাও করা সেই ছাত্রদল নেতাকে শোকজ
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাবিপ্রবি ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব, প্রতিবাদ করায় সাবেক সেনাসদস…
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9