বাকৃবি
অযত্নে ডেন্টাল ইউনিটের ৩ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি, বেশিরভাগ অকেজো © টিডিসি ফটো
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) হেলথ কেয়ার সেন্টারের ডেন্টাল ইউনিট দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ডেন্টাল ইউনিট বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে নষ্ট হচ্ছে প্রায় তিন লাখ টাকার ডেন্টাল ইউনিটের যন্ত্রপাতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে অপচয় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। ডেন্টাল ইউনিট বন্ধ থাকায় সেবা পাচ্ছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, হেলথ কেয়ারের ডেন্টাল ইউনিটে সর্বশেষ ডাক্তার ছিলো (খণ্ডকালীন) ১২ বছর আগে। তিনি হেলথ কেয়ার থেকে চলে গিয়েছিলেন ২০১১ সালে। ডাক্তার চলে যাওয়ার ১২ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ডাক্তার বিহীন হেলথ কেয়ারের ডেন্টাল ইউনিট বন্ধ হয়েছে দুই বছর ধরে।
ডাক্তার ছাড়াই গত ১০ বছর অর্থাৎ ২০২১ সাল পর্যন্ত একজন টেকনিশিয়ান কাজ করত ডেন্টাল শাখায়। দুই বছর ধরে ডেন্টাল ইউনিট বন্ধ থাকার কারণে নষ্ট হচ্ছে ডেন্টাল ইউনিটের যন্ত্রপাতি। তৎকালীন বাজারমূল্যের প্রায় তিন লাখ টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি পড়ে রয়েছে হেলথ কেয়ারের ডেন্টাল ইউনিটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের এক নেপালী শিক্ষার্থী প্রদীপ চৌধুরী বলেন, হেলথ কেয়ারে যে ডেন্টাল ইউনিট আছে তা আমি জানিই না। হেলথ কেয়ারে গেলে একটি রুম সবসময় বন্ধ থাকতে দেখি। দাঁতের যে কোনো চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলে যেতে হয়। মেডিকেলে যেতে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ডেন্টাল ইউনিট চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।
আরও পড়ুন: এগিয়ে আসছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো আশিকুজ্জামান বলেন, আমি দাঁতের ব্যাথার চিকিৎসা নেওয়ার জন্য হেলথ কেয়ারে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পরে দেখি ডেন্টাল ইউনিটের রুম তালাবদ্ধ। হেলথ কেয়ারের কর্মরত ফার্মাসিস্ট ডেন্টাল ইউনিট বন্ধ ও ডাক্তার না থাকার বিষয়টি আমাকে জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে হেলথ কেয়ারে ডেন্টাল ইউনিট থাকা সত্ত্বেও আমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে হয়েছিলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো সাঈদুর রহমান বলেন, পদ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার নিয়োগ হয়নি। অনেক দিন আগে একজন ডেন্টিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো খণ্ডকালীন হিসেবে। তিনি হেলথ কেয়ার থেকে চলে যাওয়ার পর আর কোনো ডেন্টিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা নতুন ডাক্তার নিয়োগের জন্য উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছি। একজন ডেন্টিস্ট নিয়োগ দেওয়া হলে পুনরায় ডেন্টাল ইউনিট চালু হবে। হেলথ কেয়ারের ডেন্টাল ইউনিটের যেসব যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলো নষ্ট। ডেন্টিস্ট নিয়োগ দেওয়ার পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ডেন্টিস্ট যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ডেন্টাল ইউনিট বন্ধের বিষয়ে হেলথ কেয়ার থেকে আমাদের জানায়নি। একজন টেকনিশিয়ান ডেন্টাল ইউনিট চালু রাখতো। দীর্ঘদিন ডেন্টাল ইউনিট বন্ধ থাকায় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার কথা। অনেক আগেই ডাক্তার নিয়োগের সাকুর্লার দেওয়া হয়েছিলো। ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হলে ডেন্টাল ইউনিট পুনরায় চালু হবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, আমি হেলথকেয়ারের ডেন্টাল ইউনিট বন্ধের বিষয়টি জেনেছি। কর্তব্যরত চিকিৎসক হেলথ কেয়ার থেকে চলে যাওয়ার পর পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নতুন চিকিৎসক নিয়োগ এবং ডেন্টাল ইউনিট পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।