জিএসটি গুচ্ছে এবার ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়— নতুন করে যুক্ত চারটি, বের হয়নি যবিপ্রবি © লোগো
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত দেশের ২০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও চারটি নতুন করে যুক্ত হয়েছে। অপরদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এই প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত জিএসটি গুচ্ছে থাকছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো-বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে ২৪ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এবার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৯ নভেম্বর ভিসিদের আরেকটি সভায় ভর্তি আবেদনসহ জিএসটি নিয়ে বিস্তারিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
এবারের জিএসটি গুচ্ছের কো-কনভেনর ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এবার আরও চারটি বিশ্ববিদ্যালয় জিএসটি গুচ্ছে যুক্ত হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি কর্তৃক সাবজেক্ট ও ছাত্র ভর্তির অনুমোদন পেয়ে থাকলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এই প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত জিএসটি গুচ্ছে থাকছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. কুদরাত-ই-খুদা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, গুচ্ছভুক্তির বিষয়ে ইতোমধ্যে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সভায় নতুন করে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় ইতিবাচক ফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
ভিসি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির নয়টি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে ইউজিসির বিশেষজ্ঞ দল। বিষয়গুলো হলো—কম্পিউটার সায়েন্স, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, রোবোটিক্স, এগ্রিকালচার, ডিভিএম, ফিনটেক, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি এবং ইংরেজি। প্রতিটি বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ৪০টি করে আসন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে একসঙ্গে নয়টি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর পরিকল্পনা নেই বিশ্ববিদ্যালয়টির। তিন ধাপে তিনটি, তিনটি ও চারটি অথবা চারটি, তিনটি ও তিনটি বিষয়ে ভর্তি কার্যক্রম চালুর চিন্তা রয়েছে। বর্তমান অবকাঠামোগত সক্ষমতা বিবেচনায় প্রথম ধাপে তিন থেকে চারটি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো সম্ভব বলে মনে করছেন ভিসি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি একাডেমিক ভবন নেওয়া হয়েছে। সেখানে কম্পিউটার ল্যাবসহ পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিটিটিআইয়ের একটি ভবন পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ভবনটি পাওয়া গেলে অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরও বাড়বে।
ভিসি আরও জানান, গত ১২ তারিখে ইউজিসির দুই সদস্য, কয়েকজন কর্মকর্তা এবং নয়টি বিষয়ের জন্য নয়জন বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। বিশেষজ্ঞদের ২০ তারিখের মধ্যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পূজার ছুটি এবং ইউজিসির একজন সদস্যের বিদেশ সফরের কারণে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছে। গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট সদস্যের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর ইউজিসির সভার পর গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিদের পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন ইতিবাচক ফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আবেদনও করা হয়েছে। গতকাল ইউজিসির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদল প্রতিবেদন জমা দিলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার্থী ভর্তির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
ভিসি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয় দুটি হলো—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও ইংরেজি। প্রতিটি বিষয়ে ৪০টি করে মোট ৮০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির আপাতত কোনো সংকট নেই। ইতোমধ্যে আটতলা একটি ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তার ভাষ্য, বর্তমান পর্যায়ে দুটি বিষয়ে ভর্তির পরিকল্পনা করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির আরও বেশি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সক্ষমতা রয়েছে।
গতবার গুচ্ছে ছিল যে ২০ বিশ্ববিদ্যালয়
গত শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আওতায় ছিল ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।