কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনে রেকর্ড, তবু আসন ফাঁকা

১৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ PM , আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৪০ PM
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

২০ বছরের ইতিহাসে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনে রেকর্ড গড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। তবে আবেদনের এ সাফল্যের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ভর্তি কার্যক্রমে। ৮৯০টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৯৭ হাজার আবেদন জমা পড়লেও ছয় দফা মেধাতালিকা প্রকাশের পরও পূরণ হয়নি শতাধিক আসন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ১১৩টি আসন ফাঁকা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আশংকাসহ নানান কারণে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে। প্রথম বছরেই এ পদ্ধতিতে ব্যাপক সাড়া মেলে।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ হাজার ৩০টি আসনের বিপরীতে তিনটি ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ৬৫ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী। আর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪০টি আসন কমিয়ে মোট আসনসংখ্যা নির্ধারণ করে ৮৯০টি। আসনসংখ্যা কমলেও আবেদনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬ হাজার ৬১২ জনে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ফলে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রায় ১০৮ জন শিক্ষার্থী।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ইতোমধ্যে ষষ্ঠবারের মতো মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরও সব আসন পূরণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, বাণিজ্য এবং প্রকৌশল অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে মোট ১১৩টি আসন ফাঁকা রয়েছে।

আরও পড়ড়ুন: বিনামূল্যে সৌদিতে গবেষণা ইন্টার্নশিপ, মাসে মিলবে ১ হাজার ডলার

এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগে ২টি, লোকপ্রশাসন বিভাগে ১১টি, নৃবিজ্ঞান বিভাগে ১১টি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ১০টি এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে ৯টি আসন শূন্য রয়েছে। কলা ও মানবিক অনুষদের বাংলা বিভাগে ফাঁকা রয়েছে ৯টি আসন। প্রকৌশল অনুষদের  আইসিটি বিভাগে রয়েছে ৩টি শূন্য আসন।

ব্যবসা অনুষদের মার্কেটিং বিভাগে ৩টি, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে ৩টি, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে ২টি এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ২টি আসন ফাঁকা রয়েছে। অন্যদিকে বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ১৩টি, পরিসংখ্যান বিভাগে ১১টি এবং গণিত ও রসায়ন বিভাগে ৭টি করে আসন এখনো পূরণ হয়নি।

এত আসন ফাঁকা থাকার কারণ সম্পর্কে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা জানান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম তুলনামূলক আগে শুরু হয়েছিল। পরে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয় ও বাড়ির কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বাতিল করে অন্যত্র চলে যান। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন শূন্য হয়ে পড়ে।

এদিকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে গত ১২ এপ্রিল। ক্লাস শুরুর দুই মাস পার হলেও ফাঁকা আসন পূরণে নতুন করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তবে মাঝপথে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি উপস্থিতি, অ্যাসাইনমেন্ট ও মিডটার্ম পরীক্ষার ওপর মোট ৪০ নম্বর নির্ধারিত থাকে। ফলে ক্লাস শুরু হওয়ার দীর্ঘ সময় পর ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের এসব মূল্যায়নে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ৪ বছরের প্রকল্পের ৩ বছর শেষ, ‘সিস্টেম লসে’ অগ্রগতি মাত্র ৬ শতাংশ

এ বিষয়ে বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরা জানান, নতুন শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের জন্য প্রয়োজনীয় মেকআপ বা অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে এবং সিলেবাস সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা কিছুটা তাড়াহুড়ো করে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। পরবর্তী সময়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষমাণ (ওয়েটিং) তালিকা থেকে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয় পেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ভর্তি বাতিল করে সেখানে চলে যায়। অন্যদিকে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমও চলমান ছিল। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে ভর্তি বাতিল করেছে।’

নতুন শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সম্পন্ন করা এবং উপস্থিতি, অ্যাসাইনমেন্ট ও মিডটার্মের ৪০ নম্বর কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আমরা একটি মৌলিক নির্দেশনা দেব, যাতে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

৭ দিনের মধ্যে প্রতিস্থাপন হচ্ছেন ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত…
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
কারিগরির ২১৮ জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টরের গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশ, …
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ জেলের নাম
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে আহছানিয়া মিশন মেডিকেল …
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
পদত্যাগ করলেন পিএসসি চেয়ারম্যান
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬