বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা
জাকারিয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাস © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন ডেমরার দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জাকারিয়া। আজ মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় এ ফল প্রকাশ করা হয়।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ছেলে জাকারিয়ার প্রাপ্ত নম্বর ৮০ দশমিক ৫। মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ফলসহ মোট প্রাপ্ত নাম্বার ১০০ দশমিক ৫।
ফল প্রকাশের পর জাকারিয়া গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে জানান যে, তিনি ফোকাস কোচিং সেন্টার এর ফার্মগেট শাখায় ভর্তি কোচিং করেছিলেন। কিন্তু ফল প্রকাশের ঘন্টা তিনেক পরই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফোকাসের ফার্মগেট শাখায় কিছু মানুষ এসে জাকারিয়াকে উঠিয়ে নিতে যেতে চান।
জাকারিয়া জানান, ওই লোকেরা অন্য একটি কোচিংয়ের শিক্ষক ও পরিচালনায় যুক্ত। তারা জাকারিয়াকে দিয়ে জোর করে তাদের কোচিংয়ের কথা বলানোর চেষ্টা করেছিলেন।
এ বিষয়ে ফোকাস ফার্মগেট শাখার এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের ভর্তি কোচিংয়ের শিক্ষার্থী জাকারিয়াকে আমরা সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ফার্মগেট শাখায় এনেছিলাম। কিন্তু হঠাৎই অন্য কোচিংয়ের একদল লোক আমাদের শাখায় এসে সংবর্ধনা দিতে বাধা দেয়। ওই সময় তারা জাকারিয়াকে ছিনিয়ে তাদের সঙ্গে করে নিয়েও যেতে চায়। পরে জাকারিয়া যেতে না চাইলে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।
ঘটনার বিবরণ দিলেও ওই কোচিংয়ের নাম বলতে চাননি ফোকাসের এই পরিচালক।
তবে জাকারিয়ার বন্ধু রাফিদ হাসান সাফওয়ান জানান, ‘আইকন প্লাস’ কোচিং সেন্টার থেকে লোক এসে তার বন্ধুকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। সাফওয়ান বলেন, আমার বন্ধু জাকারিয়ার সঙ্গে আমর কথা হয়েছে। তাকে আইকনের লোকেরাই তুলে নেয়ার চেষ্টা করে।
এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইকন প্লাস কোচিং কর্তৃপক্ষ। যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত মো. আনিস বলেন, আমরা এ ব্যাপারে অবগত নই। কিছু জানিনা।
বিকেলের এই ঘটনা নিয়ে জাকারিয়া একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য জাকারিয়ার সেই স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল:
“ফোকাস ফার্মগেট শাখায় আছি। লাইভের সময় হঠাৎ বাইরে হুড়োহুড়ি। কিছুক্ষণ পরে কিছু লোকজন ঢুকল। ঢুকেই বলল এই তোরা কি মিটিং করোছ নাকি। এসেই ফোকাসের ভাইদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করল।আমারেও বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু যাইনি। এক পর্যায়ে টানাটানি। তাতেও না নড়ায় এক কালো পান্ডা মাথায় থাপ্পড় দিল। শেষ পযার্য়ে ফোকাসের ভাইদের বাইরে পাঠিয়ে দিল। এক পর্যায়ে দেখলাম এক কোচিং এর কিছু টিচার। আসছিল জোর জবরদস্তি করে বলাবে জাকারিয়া আমাদের কোচিং এর।
আমার যদি কিছু হয় তাহলে তারা দায়ী। এখন ফার্মগেটই আছি। টিচাররূপী কিছু কুলাঙ্গারও চলে গেল। মওদুদ ভাইয়া এবং আলামিন ভাইয়ারাও সব জানে। কোচিং এর নাম বললাম না। ক্ষমা করে দিব বলছি। তাই ক্ষমা করে দিলাম। আশা করি আর জীবনেও এমন কাজ করবেন না। এবং টিচাররূপী কুলাঙ্গারগুলোও মানুষ হবেন। আমি ফোকাসেই কোচিং করেছি। অন্য কোথাও কোচিং করিনি।”