বেগম সামছুন্নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ © টিডিসি ফটো
ফেনীতে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে বেগম সামছুন্নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রয়েছেন ৮ জন। অথচ এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অন্যদিকে, বিকন মডেল কলেজের সাত পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, বেগম সামছুন্নাহার নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ফরম পূরণ করেন। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ২০২৪ সালেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ কৃতকার্য হননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের লস্করহাট এলাকায় বেগম সামছুন্নাহার গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চমাধ্যমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এমরানুল হক বলেন, তিনজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে দুজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া একজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশ নেননি। গত বছর ইংরেজি ও আইসিটির শিক্ষক না থাকায় এমন ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। বর্তমানে কলেজে বিষয়ভিত্তিক ৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। চলতি শিক্ষাবর্ষে আমাদের ১৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
অন্যদিকে, শহরতলীর বিকন মডেল কলেজ থেকে এবার ৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের তিনজন, মানবিক বিভাগের তিনজন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিকন মডেল কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২০১১ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০২৩ সাল থেকে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। কাগজে-কলমে কার্যক্রম চললেও গত দুই শিক্ষাবর্ষে কলেজে নতুন করে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়নি।
তিনি বলেন, এবার এইচএসসিতে অংশ নেওয়া ৭ জন শিক্ষার্থীই অনিয়মিত ছিলেন। তাদের তো আর ক্লাস করানোর সুযোগ নেই। কলেজে ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। এখন নতুন করে কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফী উল্লাহ বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া শতভাগ অকৃতকার্য দুটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।