ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ © টিডিসি ফটো
টানা চার বছর শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড থাকলেও এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করলেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৫ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে পরীক্ষার ফলাফলসংক্রান্ত এসব তথ্য জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
ফলাফলে দেখা যায়, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগ ৬০ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন। এছাড়া মানবিক বিভাগ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
ক্যাডেট কলেজের গত চার বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। তার আগে ২০২৪ সালের ৫৫ জন, ২০২৩ সালে ৫৭ জন এবং ২০২২ সালে ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই সর্বোচ্চ এই ফল অর্জন করেন। অর্থাৎ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড ছিল প্রতিষ্ঠানটির। এবার সেই ধারায় ছেদ পড়েছে।
এবার এইচএসসিতে ফেনী জেলার ৪১টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৮৭২ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৫৯৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৬৭৮ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ২৬২ জন। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪১ জন শিক্ষার্থী।
কুমিল্লা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষায় ফেনী জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো বেগম শামসুর নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিকন মডেল কলেজ।
ফলাফলে দেখা গেছে, বেগম শামসুর নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
অন্যদিকে, বিকন মডেল কলেজ থেকে এবার সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের তিনজন, মানবিক বিভাগের তিনজন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বোর্ডে পাসের হারে ফেনীর ওপরে রয়েছে শুধু কুমিল্লা জেলা। কুমিল্লায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০ দশমিক ১৫, চাঁদপুরে ৪৫ দশমিক ৩৫, লক্ষ্মীপুরে ৪১ দশমিক ২৯ এবং নোয়াখালীতে ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।