শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন © টিডিসি সম্পাদিত
এইচএসসি পরীক্ষায় তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগের দিন তিনবার করে ছাপাতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের নানা দুর্বলতা এবং অনিয়মের ‘লিকেজ পয়েন্ট’ শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের কিছু দুর্বলতা রয়েছে। বোর্ডের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পরীক্ষক ও প্রশ্নপত্র—বিভিন্ন পর্যায়ে এসব দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই বছর আমাকে এই পরীক্ষার মধ্যে তিনবার প্রশ্ন প্রিন্ট করতে হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো হয়নি। তিনটি সাবজেক্টে পৃথক পৃথক পরীক্ষার আগের দিন সারারাত প্রশ্ন ছাপিয়ে তারপর আমরা পাঠিয়েছিলাম।’
পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমনও দেখেছি যে, কোথাও কোথাও এমসিকিউর পেপার পাল্টিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সংঘবদ্ধ লোকেরা এটা করেছে। কোথাও কোথাও আমরা দেখেছি যে রেজাল্ট পাল্টিয়ে দেওয়ার জন্য অপচেষ্টা করেছে। এগুলি আমরা কিছু কিছু ধরেছি এবং বাকিগুলি ধরা হবে এবং আপনারা জানতে পারবেন।’
পরীক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দুর্বলতাগুলো বিগত দিনের দুর্বলতা বোর্ডে ছিল—সিস্টেম থেকে শুরু করে এক্সামিনার পর্যন্ত, কোশ্চেন পেপার পর্যন্ত এগুলি ছিল। এই সমস্ত দুর্বলতার লিকেজ পয়েন্টগুলো রয়েছে, সেগুলো আস্তে আস্তে আইডেন্টিফাই হচ্ছে।’
দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানের আশাবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বহুদিনের সমস্যা । তবে সমাধান হবে,,ইনশাআল্লাহ ।’
কোন কোন বোর্ডে উত্তরপত্র অদলবদল বা ফল পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে, কতটি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।