জিপিএ-৫ দুই লাখ ছুঁই ছুঁই ২০২১ সালে © টিডিসি ফটো
আর মাত্র ঘণ্টাখানেকের অপেক্ষা! এর মধ্যদিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২ মাসের অপেক্ষার ইতি ঘটতে চলেছে দেশের প্রায় ১৩ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর। শিক্ষা বোর্ডের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (৩১ অক্টোবর) ১১ টায় পরীক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন/ অফলাইনে ফলাফল উন্মুক্ত করা হবে। এবছরের এইচএসসি পরীক্ষা সবদিক দিয়ে বিশেষ। কেননা এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো সারাদেশে একই প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার হলে গার্ড দেওয়ায় ব্যাপক কড়াকড়ি নিয়ে বেশ আলোচনা হয় সেসময়। তাছাড়া খাতা মূল্যায়ন নিয়েও বেশ কড়াকড়ির কথা জানিয়েছিলেন সরকারের দায়িত্বশীল অনেকেই। যার কারণে এবছর ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এবছর কমতে পারে জিপিএ-৫ ধারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
গত ১০ বছরের মধ্যে ২০২১ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ওই বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন, যা দুই লাখের কাছাকাছি। তবে সর্বশেষ ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৯ হাজার ৯৭ জনে। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় বড় পতন হয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৭২৬ জনে। ২০১৮ সালে আরও কমে ২৯ হাজার ২৬২ জনে নেমে আসে। তবে ২০১৯ সালে কিছুটা বেড়ে ৪১ হাজার ৮০৭ জন জিপিএ-৫ পান।
২০২০ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জনে। পরের বছর ২০২১ সালে তা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। এটিই গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড। এরপর ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পান ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯২ হাজার ৫৯৫ জনে। ২০২৪ সালে আবার বেড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন হলেও ২০২৫ সালে বড় ধস নামে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী।
বছরভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭২ জন।