এইচএসসির প্রশ্নে বেহুলা ও লখিন্দরের লোহার বাসরঘর-সাপ-কলা গাছের ভেলা

০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ PM , আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ PM
লক্ষিন্দরের মেধ বা গোকুল মেধ

লক্ষিন্দরের মেধ বা গোকুল মেধ © সংগৃহীত

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে স্থান পেয়েছে বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র ও মধ্যযুগীয় কাব্য ‘মনসামঙ্গল’-এর চিরন্তন উপাখ্যান ‘বেহুলা’ ও ‘লখিন্দর’-এর গল্প। 

সোমবার (৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রের ‘পার্ট-এ’ (রিডিং টেস্ট) অংশে বেহুলা-লখিন্দরের এই ঐতিহ্যবাহী লোকগাথাটি উদ্দীপক বা প্যাসেজ হিসেবে যুক্ত করা হয়।

প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৬০ নম্বরের রিডিং টেস্ট অংশের শুরুতেই বেহুলার সাহসিকতা, লখিন্দরের বাসর ঘরে সর্পদংশন এবং স্বামীকে বাঁচানোর জন্য দেবতাদের উদ্দেশ্যে বেহুলার সেই ঐতিহাসিক ভেলা যাত্রার গল্পটি ইংরেজিতে তুলে ধরা হয়েছে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনী এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়।

প্রশ্নপত্রে উল্লেখ, বেহুলা একজন কিংবদন্তি নায়িকা এবং মনসামঙ্গলের অন্যতম চরিত্র। এটি একটি মধ্যযুগীয় মহাকাব্য। মধ্যযুগীয় কাব্য ‘মনসামঙ্গল’-এর এই বেহুলা ছিলেন উজানিনগরের সায়বেনের কন্যা। অন্যদিকে লখিন্দর ছিলেন চম্পকনগরের চাঁদ সদাগরের কনিষ্ঠ পুত্র। বেহুলা সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী নারী হিসেবে বেড়ে ওঠেন এবং লখিন্দরের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। লখিন্দরের বাবা চাঁদ সদাগর ছিলেন শিবের ভক্ত এবং অহংকার করে বলেছিলেন যে সাপের দেবী মনসার চেয়েও বেশি চতুর ও শক্তিশালী তিনি। তিনি তার ছেলে লখিন্দরের জন্য একটি লোহার বাসরঘর তৈরি করেছিলেন এই বিশ্বাসে যে এটি অভেদ্য (যা ধ্বংস করা অসম্ভব)। বেহুলা ও লখিন্দরের বাসর রাতে লখিন্দরকে মারার জন্য দেবী মনসা একটি সাপ পাঠান। সাপটি নিজেকে চুলের মতো সূক্ষ্ম করে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে এবং লখিন্দরকে দংশন করে।

বেহুলা তাঁর স্বামীর মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি কলার ভেলায় স্বামীর মরদেহ নিয়ে দেবতাদের বাসস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। এই যাত্রাপথে বিপদ-আপদ আর প্রলোভনের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। বেহুলা তবুও তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখেন এবং অবশেষে দেবতাদের বাসস্থানে পৌঁছাতে সফল হন। তিনি তাঁর স্বামীর জীবনভিক্ষা চান এবং দেবী মনসাকে প্রতিশ্রুতি দেন যে শ্বশুর চাঁদ সদাগরও তাঁর পূজা করবেন। স্বামীর প্রতি বেহুলার ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে মনসা কেবল লখিন্দরকেই বাঁচিয়ে দেননি বরং তাঁর ভাইদেরও বাঁচিয়ে দেন যাদের তিনি আগেই মেরে ফেলেছিলেন।

বেহুলা তাঁর স্বামী, ভাসুর ও দেবরদের নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। চাঁদ সদাগরও মনসার শক্তির কাছে মাথা নত করেন। পরে লখিন্দর এবং বেহুলা অনিরুদ্ধ এবং ঊষা হিসেবে তাঁদের স্বর্গীয় বাসস্থানে ফিরে যান।

বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্রে মনসামঙ্গল কী সেটি জানতে চাওয়া হয়। এছাড়াও কিংবদন্তি শব্দটি দিয়ে কী বোঝায় এবং অভেদ্য এর সমার্থক শব্দ কী এমন বিষয়গুলো জানতে চাওয়া হয়।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
ঐতিহাসিক জয়ের পর সুখবরও পেল বাংলাদেশ 
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
তৃণমূল কার্যালয়ে থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ডেপুটি স্পিকারের ম…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
পে স্কেল বাস্তবায়ন কবে থেকে, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য স…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
রাবি ভর্তি পরীক্ষা ৭ কেন্দ্রে, আবেদন শুরু ১২ নভেম্বর
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের কাছে হারের পর অজুহাত দিলেন না কামিন্স, প্রশংসায় …
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
nextjobzimage