যশোর বোর্ড © সংগৃহীত
যশোরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানর উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বরপত্র ও প্রশংসাপত্র প্রদানের নামে বাণিজ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ডকুমেন্ট নিতে গেলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। অথচ পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি’র সাথে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী একাডেমিক নম্বরপত্র ফি বাবদ ১০০ টাকা পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় পরিশোধ করে। ‘বেআইনিভাবে’ এই টাকা নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নম্বরপত্র দেয়ার ক্ষেত্রে টাকা নেয়া অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড থেকে ফিস নির্ধারণ করে দেয়া হয়। নির্ধারিত টাকার অংশে উল্লেখ করা থাকে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট (নম্বরপত্র) ফি প্রতি পরীক্ষার্থী ১০০ টাকা করে জমা দেবে। সেই নিয়ম অনুযায়ী এইচএসসির পরীক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করে ২০২৫ সালে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে।
সম্প্রতি পাস করা শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কলেজ থেকে তাদের বলা হচ্ছে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র নিতে হলে ৩০০ টাকা দিতে হবে, এ টাকা না দিলে দেয়া হবে না। তিনটি কলেজের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে এ ঘটনার সত্যতাও পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে ঢাবির একচেটিয়া আধিপত্য আরও কমল
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর উপজেলার হামিদপুর আল হেরা কলেজের এক শিক্ষক জানান, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের নিতে গেলে ৩০০ টাকা কলেজে দেয়া লাগছে। এটি কলেজ গভনিংবডি মিটিং করে নির্ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া টাকা আপ্যায়নসহ কিছু আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় করা হয়। এজন্য সরকার থেকে কোনো টাকা কলেজের দেয়া হয় না।
যশোর কলেজের আরেক শিক্ষক জানান, এইচএসসি পরীক্ষার একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র প্রদানে যে টাকা নেয়া হয়, সেই টাকা কলেজের সাধারন ফান্ডে জমা হয়। গভনিং বডির সিদ্ধান্তে টাকা তুলে ব্যয় করা হয়। আরো দুটি কলেজের শিক্ষকদের সাথে কথা বলছে তারাও একই কথা জানান।
শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এসএস তৌহিদুজ্জামান বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র প্রদানে কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে পারবে না। টাকা নিলে সেই দায়ভার কলেজের। এই বাবদ টাকা নেয়া অবৈধ।’
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেয়া অবৈধ। এ বাবদ বোর্ড থেকে কলেজের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া হয় না। যদি কোন কলেজ অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট দেয়া বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়, আর তা প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’