গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক কলেজছাত্রী। রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলবাড়ি গ্রামের সেনা সদস্য মিরাজ খন্দকারের বাড়িতে বৃহস্পতিবার থেকে ওই কলেজ ছাত্রী অবস্থান করছে। এ ঘটনার পর মিরাজ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে জানা যায়। ওই কলেজছাত্রী বলছেন, ‘হয় বউ, না হয় লাশ’ হয়ে প্রেমিকের বাড়ির কবরে যাব।
রবিবার স্থানীয় লোকজন জানান, মিরাজরে সঙ্গে তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রীর। গত বৃহস্পতিবার মিরাজ ফোন করে কলেজছাত্রীকে নিজের বিয়ের দিনক্ষণের কথা জানান। এরপরই ওই ছাত্রী তার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন। সঙ্গে সঙ্গে মিরাজ বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং বিষয়টি জানাজানি হলে তার বিয়েও ভেঙে যায়। রবিবার রাত আটটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই কলেজছাত্রী প্রেমিকের বাড়িতে তার দাবির পক্ষে অনড় ছিলেন।
বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেওয়া ওই ছাত্রী বলেন, প্রেমিকের বাড়ির পাশেই তার (ছাত্রীর) মামা ও খালার বাড়ি। এখানে আসা–যাওয়ার সুবাদে তরুণের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বর্তমানে প্রেমিক তরুণ রাঙামাটিতে কর্মরত। বিয়ে করার জন্য ছুটিতে বাড়িতে আসেন তিনি। এর আগে ছুটিতে বাড়িতে এসে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় প্রেমিক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সে যদি এখন আমাকে বিয়ে না করে, তাহলে এই বাড়িতেই আমি আত্মহত্যা করব।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমৃত লাল হালদার বলেন, নুরুল হক খন্দকারের ছেলে মিরাজের সঙ্গে ওই এক ছাত্রীর গত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত বৃহস্পতিবার মিরাজ ওই ছাত্রীকে ফোন দিয়ে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে বলে জানায়। ওই দিনই মেয়েটি মিরাজের বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ফারুক বলেন, এই ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।