আরব জোটের সমর্থনে ঝুলছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য

২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ PM , আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ PM
আরব জোট

আরব জোট © সংগৃহীত

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে থাকলেও বিরোধীদের সরকার গঠনের পথ এখনো নিশ্চিত নয়। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী দলগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করা। এদিকে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিষয়ে বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতার আপত্তি থাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে আরব জোটের দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে কট্টরপন্থী এই নেতার রাজহনৈতিক ভাগ্য।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের আংশিক ফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব-নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭। তবে এই হিসাব সরকার গঠনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। কারণ, আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণে বিরোধী নেতাদের একাংশের রাজনৈতিক আপত্তি রয়েছে।

সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা
নেতানিয়াহুর জোটের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুস্পষ্ট পথ না থাকলেও বিরোধী শিবিরের জন্যও সরকার গঠন সহজ হচ্ছে না। আইজেনকটের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান আগে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

কিন্তু নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হলে তাঁদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হলে বিরোধীদের সামনে নতুন নির্বাচন অথবা নেতানিয়াহুর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের মতো বিকল্প থাকতে পারে। এতে অন্তত স্বল্প মেয়াদে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কী বলছে আরব দলগুলো
রা’আমের নেতা মনসুর আব্বাস আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হলে তাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এমন সরকার গঠন বাস্তবে সম্ভব কি না? তা নিশ্চিত হওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। ভোট গ্রহণ শেষে আব্বাস জানিয়েছেন, ‘শুধু পরিবর্তনপন্থী শিবির নয়, নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।’ তিনি বলেছেন, ‘লিকুদ দলও রা’আমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’

এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু আব্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে রা’আম নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেয়। এ ঘটনা ইসরায়েলের সরকার গঠনের রাজনীতিতে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে। অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন বুধবার বলেছেন, ‘নেতানিয়াহুর সরকারের বিকল্প গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁরা বিরোধী জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।’ তাঁর মতে, বিকল্প সরকার গড়তে চাইলে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।

জয়েন্ট লিস্ট মূলত হাদাশ, তাল ও বালাদ—এই তিনটি দলের জোট। ঐতিহাসিকভাবে জায়নবাদী নেতৃত্বাধীন সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়ার বিষয়ে তাদের অনীহা ছিল। তবে ২০১৯ ও ২০২০ সালে নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠনের প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার নজির রয়েছে দলটির।

বেড়েছে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ
এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নেতানিয়াহুর সরকার এবং তাঁর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের নীতির প্রতি অসন্তোষকে এই অংশগ্রহণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৯-এ পৌঁছালে তা হবে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এর আগে ২০২০ সালে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ ১৫টি আসন পেয়েছিল। বিদায়ী পার্লামেন্টে জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের আসন ছিল পাঁচটি করে।

তবে আসনসংখ্যা বাড়লেও সরকার গঠনে তাদের প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে বিরোধী নেতারা তাদের সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি হন কি না, তার ওপর। রা’আম নতুন সরকারে সরাসরি যোগ দিলে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব চাইতে পারে। একই সঙ্গে আরব সম্প্রদায়ের সংগঠিত অপরাধ, আবাসনসংকট, বৈষম্য এবং দীর্ঘদিনের বিনিয়োগঘাটতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও উঠতে পারে।

রাজনৈতিক ঝুঁকিতে বিরোধী নেতারা
আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করলে আইজেনকট, বেনেট ও লিবারম্যানের সমর্থকদের একাংশ অসন্তুষ্ট হতে পারেন। তাঁদের জোটের ডানপন্থী ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে বিরোধিতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে, ২০২১ সালে বেনেটের নেতৃত্বাধীন সরকারে রা’আম অংশ নিয়েছিল। কিন্তু পরে ডানপন্থী কয়েকজন সংসদ সদস্যের দলত্যাগের কারণে সেই সরকারের পতন ঘটে। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থনে নতুন সরকার গঠন সম্ভব হলেও সেটি কতটা স্থিতিশীল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

একইসঙ্গে আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে আইজেনকটের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু সরকার গঠন। ইসরায়েলের রাজনীতিতে এর আগেও এমন নজির রয়েছে। ১৯৯৩ সালে শাস দল শাসক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ইয়িৎসহাক রবিন ৫৬ জন জোট-সদস্যকে নিয়ে সরকার পরিচালনা করেন এবং আরব দলগুলোর বাইরের সমর্থনের ওপর নির্ভর করেন। তাঁর উত্তরসূরি শিমন পেরেজও আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা করেছিলেন।

তবে নতুন নির্বাচন হলে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ এবারকার মতো বেশি থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করলে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিরোধী নেতাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনসমর্থন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নির্বাচনের আংশিক ফলে নেতানিয়াহুর বিরোধীদের সামনে সংখ্যাগতভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও রাজনৈতিক ঐকমত্য এখনো অনিশ্চিত। আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট, বাইরে থেকে তাদের সমর্থন গ্রহণ, নতুন নির্বাচন কিংবা নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যের সরকার—কোন পথ বেছে নেওয়া হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ।

ইসরায়েলের নির্বাচনে কোন জোটে কোন দল
ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে লিকুদ, জিউইশ পাওয়ার, রিলিজিয়াস জায়নিজম, পিপল অব ইসরায়েল এবং অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের প্রতিনিধিত্বকারী শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে)।

নেতানিয়াহুর বিরোধী জোটে রয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের টুগেদার (বেইয়াচাদ), ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল আওয়ার হোম। অন্যদিকে, জোটের বাইরে রয়েছে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন আরব-ইসলামপন্থী দল রা’আম, আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট এবং ইয়োজ হেন্ডেলের নেতৃত্বাধীন দ্য রিজার্ভিস্টস।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করল স্পেন 
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বাঁশপাতা থেকে চা উদ্ভাবন করে দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পা…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
আরব জোটের সমর্থনে ঝুলছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৮তম জিএসের অপেক্ষায় ছেড়ে গেলাম দীর্ঘ ১ বছরের সঙ্গীকে: আম্ম…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে বি…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
উচ্চশিক্ষায় স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬