জন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ নয়, মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন ককরোচ নেতারা 

২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ PM
সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা

সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা © সংগৃহীত

ভারতের দিল্লিতে জন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে আদালতে লিখিত অঙ্গীকার করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিচার বিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার আগে তারা স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে এ অঙ্গীকার করেন। খবর এনডিটিভির

গত ১৩ অক্টোবর জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল হিসেবে স্বীকৃতি বাতিল করায় সেখানে জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করায় আটক হয়েছিলেন তারা। এ ঘটনায় সাত দিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর বুধবার তাদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার দেওয়া লিখিত অঙ্গীকারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তারা বলেন, ‘আমি শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার অঙ্গীকার করছি। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থা ও এর সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি, বিশেষ করে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

অঙ্গীকারনামায় তারা আরও বলেন, ‘শান্তি, আইনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। আইন অনুযায়ী জন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলের স্বীকৃতি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো বিক্ষোভের ডাক দেব না। ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হলে তা সংবিধানের সীমার মধ্যেই করা হবে।’

গত ১৩ অক্টোবর জন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ওড়ান সিজেপির মুখপাত্র দাস ও রাঙ্কা। প্রতিবাদস্থল হিসেবে জন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এর এক দিন আগে, ১০ অক্টোবর নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পর তাদের আটক করা হয়েছিল। ওই সময় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন তারা। পরে জন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ করায় সেই মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগ তোলে প্রসিকিউশন।

১৪ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সোমবার তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়েছিল। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দলটির অভিযোগ, দুই নেতাকে আটক রাখতেই ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করা হচ্ছিল। হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদনও করে দলটি।

বুধবার ওই আবেদনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট মুচলেকা ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে। আদালত বলেন, আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা ব্যারিকেড ভাঙলে অন্যরাও তা অনুসরণ করতে পারেন। এমন ব্যক্তিরাও বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন, যাদের আন্দোলনের নেতারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

আদালত আরও বলেন, দেশের বাইরেও এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে অগ্নিসংযোগ ও ভবন পোড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি বিচারকরা। শুনানিতে দুই নেতার বয়স জানতে চান আদালত। তাদের বয়স ২৭ ও ৩১ বছর জানানো হলে বিচারকরা মন্তব্য করেন, তারা জেন-জি প্রজন্মের নন।

বর্তমানে সিজেপি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে। তার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগের পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে দলটি। বিরোধী দলগুলোও এ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আদালত দাস ও রাঙ্কাকে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদারসংক্রান্ত বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আদালত। আগামী শুক্রবার মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মীয় অধিকার চর্চায় বাধা দেওয়া যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
জন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ নয়, মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন ককরোচ ন…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
দুই সপ্তাহ পর রিয়াদের ফ্লাইট চালু, কাল শুরু দাম্মামে
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
মক্কায় আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেল ৩ শিশু
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
সেনা পাবলিক স্কুল ও কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি,…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
সাগরে গোসল করতে নেমে আইইউটি শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬