ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার © সংগৃহীত
চলমান ককরোচ আন্দোলনের মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারে পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করতে কেরালার বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) এ প্রস্তাব পাস হয়।
এই প্রস্তাব এমন সময়ে পাস হলো যখন দিল্লিতে কংগ্রেস, সিজেপিসহ বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার যুবক-যুবতী রাজপথে নেমে এসেছে। প্রস্তাবে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের অবিলম্বে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিধানসভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে ভারতের কোনো বিধানসভায় এ ধরনের প্রস্তাব পাসের ঘটনা এটিই প্রথম।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটির কাঠামো পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয়েছে প্রস্তাবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা এবং প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব পাসের পর মুখ্যমন্ত্রী সতীশন বলেন, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। কোনো প্রতিষ্ঠানেরই নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সতীশন লিখেছেন, ‘আমাদের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। ভোটাধিকার অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। সংবিধান সমুন্নত রাখতে হবে। গণতন্ত্রকে জয়ী হতে হবে। কেরালা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।’