সৌদি যুবরাজ ও ট্রাম্প © সংগৃহীত
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতিদের তৎপরতা বাড়ায় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিমান হামলা চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার অনুরোধ করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে সৌদি যুবরাজের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানালেও আপাতত এতে রাজি নয় ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজের অনুরোধের পরও হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার কোনো পরিকল্পনা করছে না যুক্তরাষ্ট্র।
হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা দখল করে বাব এল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তৎপরতার পর বাব এল-মানদেবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে নতুন শক্তি জোগাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়াতে না চাইলেও সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সমন্বয় বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইতোমধ্যে সৌদি আরব সফর করেছেন।
গত জুলাইয়ে ইরানি বিমানকে সানায় অবতরণে বাধা দেওয়ার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়। এরপর হুতিরা সৌদি ট্যাংকার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা শুরু করলে রিয়াদ ও তার সহযোগীরাও পাল্টা হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ও হরমুজ প্রণালির ওপর মনোযোগ ধরে রাখতেই অন্য কোনো নতুন ফ্রন্ট না খোলার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর সৌদি আরবের অনুরোধে সাড়া দেননি তিনি।
তবে সরাসরি সামরিক হামলা না চালালেও সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তথ্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনাসদস্য সৌদি আরবকে নন-কাইনেটিক সহায়তা দিচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক অংশীদারদের সক্ষম করে তোলাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।