জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের দুই কর্মী মারা গেছেন © বিবিসি
বিমানে করে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে ঢুকে পড়া ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশার কামড়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই কর্মী। বিমানবন্দরে ম্যালেরিয়ার বিরল এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ছয়জন কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। কীভাবে মশাগুলো বিমানবন্দরে ঢুকল এবং আক্রান্ত কর্মীরা কোন মশার কামড়ে সংক্রমিত হলেন, তা জানতে তদন্ত ও পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের দুই কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিমানবন্দরে ম্যালেরিয়ার এই বিরল প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় মোট ছয়জন কর্মী গুরুতর এই রোগে আক্রান্ত হন।
জার্মানির জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, একটি বিমানের মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহনকারী মশা বিমানবন্দরে ঢুকে পড়তে পারে। পরে সেখান থেকেই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। গত জুলাইয়ে প্রথম এই প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি শনাক্ত হয়।
বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রাপোর্টের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, আক্রান্ত কর্মীদের একজন মারা গেছেন। পরে বুধবার জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে দুজন মারা গেছেন।
ঘটনার পর বিমানবন্দরে মশা ধরার ফাঁদ বসানো হয়েছে। এসব ফাঁদে ধরা পড়া মশা পরীক্ষাগারে নিয়ে পরীক্ষা করা হবে। মশাগুলোর প্রজাতি এবং তারা কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করবেন বিশেষজ্ঞরা।
ফ্রাপোর্টের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সব কর্মীকে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছি। কারও মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে আমরা তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছি।’
ফ্রাঙ্কফুর্টের জনস্বাস্থ্য বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে। কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, বিমানবন্দরের কোন এলাকা থেকে মশাগুলো এসেছে এবং কীভাবে সেখানে ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশার উপস্থিতি তৈরি হলো।
বিবিসি জানতে পেরেছে, আক্রান্ত ছয়জনই পুরুষ। তাঁরা বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় এবং বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁরা একই মশার কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন, নাকি আলাদা ছয়টি মশা তাঁদের কামড়েছে, তা জানতে কর্মকর্তারা তাঁদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করছেন।
বুধবার পরে ফ্রাঙ্কফুর্টের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তাঁরা জানান, আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে দুজন মারা গেছেন।
চিঠিতে বলা হয়, ‘ফ্রাঙ্কফুর্টের সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি খুবই কম। ম্যালেরিয়া একজন মানুষ থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায় না। মশার কামড়ের মাধ্যমেই এই রোগ ছড়ায়।’
আক্রান্ত ব্যক্তিরা কীভাবে ম্যালেরিয়ায় সংক্রমিত হয়েছেন, তা জানতে যে পরীক্ষাগুলো করা হচ্ছে, সেগুলোর ফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এসব পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জুলাইয়ে প্রথম এই প্রাদুর্ভাবের খবর প্রকাশিত হয়। তখন চারজন বিমানবন্দর কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল।
জার্মানির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সরকারি সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) এর আগে জানিয়েছিল, ওই চার কর্মী ৪ থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সংস্থাটি ধারণা করেছিল, বিমানের মাধ্যমে মশা বিমানবন্দরে ঢোকার পরই তাঁরা আক্রান্ত হন।
আরকেআই জানিয়েছে, জার্মানিতে ম্যালেরিয়ার বেশিরভাগ রোগীই এমন মানুষ, যারা ম্যালেরিয়াপ্রবণ দেশে ভ্রমণের সময় আক্রান্ত হন। জার্মানির কোনো বিমানবন্দরে মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা খুবই বিরল।
সংস্থাটি তাদের এক মহামারি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলে চিকিৎসকেরা ম্যালেরিয়া শনাক্ত করতে দেরি করতে পারেন। আর রোগ শনাক্ত করতে দেরি হলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আরকেআই আরও জানিয়েছে, এর আগে ২০২৩ সালে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরেই সর্বশেষ এমন মশাবাহিত ম্যালেরিয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
ম্যালেরিয়া এক ধরনের রোগ, যা নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলোতে এই রোগ বেশি দেখা যায়।
ম্যালেরিয়া একটি পরজীবীর কারণে হয়। রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে ওঠাও সম্ভব। সাধারণত একজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি আরেকজনের শরীরে ম্যালেরিয়া ছড়ায় না। তবে রোগটির উপসর্গ কখনো হালকা হতে পারে, আবার কখনো তা জীবনহানির কারণও হতে পারে।