টাকা দিয়ে হলেও সংঘাত থামাতে চায় সৌদি আরব

৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ PM
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সংঘাত এড়িয়ে চলার কৌশল নিয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে এখন সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই একদিকে যেমন পাল্টা হামলা চালাচ্ছে রিয়াদ, অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রয়োজনে অর্থের বিনিময়ে প্রতিপক্ষকে সমঝোতায় আনার পথও বিবেচনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট ও কূটনৈতিক দ্বিধার মুখে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই সৌদি আরব সরাসরি এই সংঘাতে জড়ানো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিন দিক থেকে হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরবের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত প্রক্সি মিলিশিয়াদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সৌদির দাবি, এই গোষ্ঠীগুলোই তাদের ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা চালাচ্ছিল।

এখন রিয়াদের সামনে বড় প্রশ্ন—প্রতিপক্ষকে দমাতে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে, নাকি অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করবে।

এই সংঘাতে একদিকে রয়েছে ইরান এবং দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা, যারা ২০১৪ সালে দেশটির বড় অংশ দখলে নেয়।

ইরানের সমর্থন রয়েছে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর প্রতিও। সৌদি আরবের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীই তাদের ওপর প্রায় ৩০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবেই সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

এ ছাড়া লেবাননের হিজবুল্লাহও ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। যদিও বর্তমানে তারা সরাসরি সংঘাতে সক্রিয় নয়।

অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ছাড়াও বিভিন্ন মাত্রায় উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র ও জর্ডান রয়েছে। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও বর্তমানে এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুথিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে না চাওয়ার পেছনে সৌদি আরবের বড় কারণ হলো দেশটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা 'ভিশন ২০৩০'।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরতা থেকে বের করে আনতে চান। পাশাপাশি আধুনিক শিল্প গড়ে তুলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছেন।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থায়ী হুমকি থাকলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব বড় ধরনের নিরাপত্তা ধাক্কা খায়। সে সময় ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা দেশটির আবকাইক ও খুরাইসের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায়।

প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, হামলাটি হুথিরা চালিয়েছে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, হামলার চিহ্ন উত্তর দিক থেকে এসেছে, যা ইরাকের দিক থেকেই আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।

ওই হামলায় কয়েক দিনের জন্য সৌদি আরবের প্রায় অর্ধেক তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

সম্প্রতি স্যাটেলাইট ছবিতেও দেখা গেছে, আবকাইক তেল স্থাপনায় আবারও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ড্রোন হামলা হয়েছে।

তেল এখনো সৌদি অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দেয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন হতো।

এর জবাবে সৌদি আরব দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে শুরু করে। সেখান থেকে ট্যাংকারে করে তেল এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছিল।

কিন্তু ১৩ জুলাই নতুন করে সংকট তৈরি হয়। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার সানার বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালায়। তাদের দাবি ছিল, একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতেই এই হামলা করা হয়েছে।

এর জবাবে হুথিরা সৌদি আরবের আবহা ও জিজান বিমানবন্দরে হামলা চালায়।

এর পাশাপাশি হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজেও হামলা শুরু করেছে। ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে এশিয়ায় সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প পথও হুমকির মুখে পড়েছে।

সৌদি আরব প্রায় সাত বছর ধরে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েও তাদের পরাজিত করতে পারেনি।

সেই যুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের জন্ম দেয়, যার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।

২০২২ সালে সৌদি আরব হুথিদের সঙ্গে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে হুথিদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতারও খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

কিন্তু এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ধনী দেশটি আবারও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। উত্তরে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া এবং দক্ষিণে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চাপের মধ্যে রিয়াদকে একদিকে নিরাপত্তা, অন্যদিকে অর্থনীতি ও কূটনীতির ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

‎জাবি অধ্যাপকের কক্ষে সাড়ে ৫ ফুটের সাপ, পরে যা হলো
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশকে টপকাতে পারল না ভারত, ফাইনালে উঠতে কী করণীয়?
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি: গুরুত্বপূর্ণ চার সমস্যা শনাক্ত করল মাউশি
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার মানুষ গড়ার তীর্থভূমি হামদ…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে চাকরি, আবেদন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
‘মক্কা প্যাক্ট মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এতে কারো উদ্ব…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬