পুরোপুরি রাজনীতিতে যুক্ত হবে কী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, যা বললেন সংগঠনের নেতারা

২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ AM
 সিজেপির দুই নেতা

সিজেপির দুই নেতা © সংগৃহীত

নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আন্দোলনের সাফল্যের পর সংগঠনটি কি এবার পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপ নেবে—এমন প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। তবে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত তাদের লক্ষ্য রাজনীতিতে নামা নয়; বরং তরুণদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে একটি শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস আন্দোলনের ভবিষ্যৎ, সংগঠনের পরিকল্পনা এবং রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের দিনই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে টানা কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের পর তার এই পদত্যাগ আসে। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবিও ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, এই মুহূর্তে তার একমাত্র ইচ্ছা বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। এখন শুধু একটু বিশ্রাম নিতে চাই, গত দুই মাসে কী ঘটেছে তা নিয়ে ভাবতে চাই। আমাদের সবার জন্যই এটি আবেগের মুহূর্ত। এটি গর্বের, আনন্দের এবং স্বস্তির সময়। এরপর পরিস্থিতি যেদিকে যাবে, সেভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

তাকে যখন সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন, তখন তিনি বলেন, ‘ভারতে কোনো কিছু নিয়েই কখনো "না" বলা উচিত নয়—আমি অন্তত সেটাই মনে করি।’

অন্যদিকে সিজেপির আরেক মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট করে বলেন, এই মুহূর্তে রাজনীতি তাদের লক্ষ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার। এই আন্দোলনকে দেশের তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে চাই। দেশে ইতোমধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু তাদের কেউই তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। আমরা চাই, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, তারা যেন তরুণদের জন্য কাজ করে এবং তাদের দাবিগুলো পূরণ করে। আপাতত এটাই আমাদের কর্মসূচি।’

পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি তার ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়।

তিনি লেখেন, দেশের ঐক্য অটুট রাখা, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং শিক্ষার্থীরা যেন আবার পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে—এসব বিবেচনায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি চান না কোনো ‘দেশবিরোধী শক্তি’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিক।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় জনবিতর্কের জেরে পদত্যাগ করা ধর্মেন্দ্র প্রধান দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর আগে ২০১৮ সালে #মিটু আন্দোলনের সময় যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়েন এম জে আকবর।

২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন শুরু করার পর প্রায় এক মাস ধরে সরকার তাদের প্রধান দাবি মেনে নেয়নি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই অবস্থানের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাবেক আম আদমি পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। মে মাসে এটি ব্যঙ্গধর্মী একটি অনলাইন প্রচারণা হিসেবে শুরু হলেও পরে তা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় যুব আন্দোলনে পরিণত হয়।

শেষ দফার বৈঠকে বিজেপির সভাপতি জে.পি. নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় কী পরিবর্তন হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, আগের বৈঠকগুলোর তুলনায় শেষ বৈঠকের পরিবেশ ছিল অনেক বেশি ইতিবাচক।

তিনি জানান, সিজেপির প্রতিনিধিদল বৈঠকে পৌঁছানোর আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন।

রাঙ্কা বলেন, ‘আজকের বৈঠকটি খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। আমরা পৌঁছানোর আগেই পদত্যাগ হয়ে গিয়েছিল। এরপর মূলত বাকি দুটি দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। খুব দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়। তারপর আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিই, পুরো বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটানো হবে। সরকার যেভাবে আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, আমরা সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

সরকার প্রথমবার সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসে ২০ জুলাই। একই সময়ে আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গেও আলোচনা শুরু হয়। ২৮ জুন তিনি আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর আন্দোলনটি আরও গতি পায়।

বৃহস্পতিবার রাতে সোনম ওয়াংচুক তার অনশন ভাঙেন।

এরপর কনস্টিটিউশন ক্লাবে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, কোনো মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা হতে হবে। সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ার পরই বৈঠকটি হয়। শনিবার শেষ দফার বৈঠকে বাকি দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়।

শেষ বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সরকার কি সব এফআইআর প্রত্যাহার করবে, নাকি শুধু শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো—এমন প্রশ্নের জবাবে রাঙ্কা বলেন, গুরুতর অপরাধী আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীর মধ্যে পার্থক্য করা অবশ্যই সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই সিজেপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে ছিল এবং গত ৩৭ দিনে আমরা সেটিই প্রমাণ করেছি। লিখিত চুক্তি খুব শিগগিরই হবে বলে আশা করছি। তবে যে সমঝোতা হয়েছে, তাতে আন্দোলনকারী ও সংগঠকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে। ভবিষ্যতেও সিজেপির সংগঠক ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো এফআইআর করা হবে না।’

সরকার কেন আন্দোলনের মূল দাবি মানতে প্রায় এক মাস সময় নিল—এ প্রশ্নের জবাবে রাঙ্কা বলেন, এর উত্তর সরকারেরই দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমরা নাড্ডা সাহেবকেও একই প্রশ্ন করেছি। শিক্ষার্থীরা ৩০ দিন ধরে রাস্তায় ছিল। ২০ জুলাইয়ের বিশাল কর্মসূচির পরও কেন সরকার এত দেরিতে সাড়া দিল? আমার মনে হয়, সরকারের আরও আগেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই শিক্ষিত মানুষ। কেউ পেশাদার আন্দোলনকারী নই। আমরা সবাই নিজ নিজ পেশায় কাজ করছিলাম। রাজনীতির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। অভিজিৎ দীপকে বোস্টনে পড়াশোনা করছিলেন। এই আন্দোলন না হলে তিনি হয়তো চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।’

ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগপত্রে ইঙ্গিত দেন, কিছু মানুষ আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যেন আন্দোলনকারীদের আর ‘দেশবিরোধী’ বা ‘ভাইরাস’ বলে আখ্যা না দেয়।

তিনি বলেন, ‘আমি এ নিয়ে খুব বেশি বিতর্কে যেতে চাই না। তবে আশা করি, তারা আমাদের আর দেশবিরোধী বা ভাইরাস বলবে না। অনেক দিন ধরেই আমাদের এভাবে বলা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমি মনে করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

ষড়যন্ত্র সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন মির্জা আব্বাস
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সালমান শাহর মৃত্যুর ৩০ বছর আজ, এখনো কাটেনি রহস্যের জট
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিশরের জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক সারাহ খলিফাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের বাজারে কমল সোনার দাম, ভরিতে কত
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, পাবেন যা…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একাই নদীর আবর্জনা পরিষ্কার করে ভাইরাল যুবক, পেলেন ডাচ কোম্প…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9