রূপালী পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দান: বিজয় কি পারবেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হতে

০৪ মে ২০২৬, ০৮:২৫ AM
থালাপাতি বিজয়

থালাপাতি বিজয় © সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মেগাস্টার বিজয়। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি ‘পরবর্তী এমজিআর’ হয়ে উঠতে পারবেন।

একাধিক বুথফেরত জরিপে ক্ষমতাসীন দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম (ডিএমকে)-এর জয়ের পূর্বাভাস মিললেও ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, বিজয়ের দল ১২০টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে। তবে বুথফেরত জরিপ প্রায়ই ভুল প্রমাণিত হয়, তাই চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।

তামিলনাড়ু দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতিবিদ তৈরির উর্বর ক্ষেত্র। এমজিআর ডিএমকে থেকে বেরিয়ে এসে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হন। তার উত্তরসূরি জে জয়ললিতাও একই পথ ধরে ক্ষমতায় আসেন। ডিএমকে-এর প্রতিষ্ঠাতা সি এন আন্নাদুরাই একজন খ্যাতিমান চিত্রনাট্যকার ছিলেন। এম করুণানিধি কবি ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী হন। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বিজয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজয় ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তার দল অংশ নেবে। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বলেন, 'রাজনীতি আমার কাছে কেবল অন্য একটি পেশা নয়। এটি জনগণের জন্য একটি পবিত্র সেবা।' 

তিনি আরও বলেন, 'রাজনীতি আমার শখ নয়, এটি আমার অন্বেষণ'। একই দিনে তিনি ঘোষণা দেন, তার আসন্ন ছবি ‘থালাপ্যাথি ৬৯’, যার নাম পরে ‘জন নায়কন’ রাখা হয়, সেটিই হবে তার শেষ সিনেমা। ছবিটি এখনো সেন্সর বোর্ডে আটকে আছে।

৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা পেরাম্বুর ও তিরুচি পূর্ব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার দল জানায়, তারা নীতিগত রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, 'টিভিকে জনমুখী রাজনীতি এগিয়ে নিতে কাজ করে—জনগণের জন্য, জনগণকে সাথে নিয়ে, জনগণের একজন হয়ে।'

বিজয় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিয়েছেন। ২০০৯ সালে তার প্রায় ৮৫ হাজার সদস্যের ফ্যান ক্লাব ‘বিজয় মক্কাল আইয়াক্কাম’ (ভিএমআই) একটি কল্যাণ সংগঠনে রূপ নেয়। ২০১১ সালের নির্বাচনে এটি এআইএডিএমকে জোটকে সমর্থন দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করে। তখন থেকেই বিজয়ের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে এমজিআরও তার ফ্যান ক্লাবগুলোকে দলীয় ইউনিটে রূপান্তর করেছিলেন।

চলচ্চিত্রেও বিজয় তার রাজনৈতিক ইমেজ গড়ে তোলেন। ‘থালাইভা’ ছবির ট্যাগলাইন ছিল ‘টাইম টু লিড’, যা তার রাজনীতিতে আসার ইঙ্গিত দেয়। ‘কাথথি’, ‘মেরসাল’, ‘বিগিল’ ও ‘সরকার’ সিনেমায় তিনি সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেন। চলচ্চিত্র সমালোচক আদিত্য শ্রীকৃষ্ণ বলেন, তিনি 'সচেতনভাবে তার ইমেজে পরিবর্তন আনেন'। পৃথাম কে চক্রবর্তী বলেন, 'এই বীজ বপন করেছিলেন তার বাবা, যাঁর বামপন্থী ঝোঁক ছিল এবং তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন।'

২০২০ সালে বিজয়ের বাবা ভিএমআই-কে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করলে বিজয় তা অস্বীকার করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় সেটি বিলুপ্ত হয়। এরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই সংগঠনের প্রার্থীরা ১৬৯টির মধ্যে ১১৫টি আসনে জয় পায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজয় নিজেই প্রার্থী বাছাই ও রাজনৈতিক এজেন্ডা নির্ধারণে সক্রিয় থাকেন।

রাজনৈতিক সাংবাদিক প্রভাকর টি বলেন, 'রাজনৈতিক অভিপ্রায়' বিজয় অনেক আগে থেকেই দেখিয়ে আসছিলেন। ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কান তামিলদের সমর্থনে নাগাপট্টিনাম জেলেদের পাশে দাঁড়ানো এবং ২০১৭ সালে নিট-বিরোধী আন্দোলনের সময় সক্রিয় হওয়া তার রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

তবে বিতর্কও রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে কারুরে তার সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ১১ জন শিশু ছিল। এই ঘটনায় তার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা ওঠে। বিজয় বলেন, 'উদ্বেগ থেকে এবং অপ্রীতিকর কিছু যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে আমি জায়গাটি ত্যাগ করেছিলাম।' পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চেন্নাইয়ে এনে তার সঙ্গে দেখা করানো হয়।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আলোচনায় আসেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তার স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর আচরণ ও প্রতারণার অভিযোগ আনেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন সি রমন বলেন, 'জেন জি' তরুণদের মধ্যে বিজয়ের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। এই তরুণদের অনেকেই ডিএমকে ও এআইএডিএমকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। 

বিজয় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি বিজেপি বা ডিএমকে—কোনো দলের সাথেই জোট করবেন না। টিভিকে জানায়, 'স্বার্থপর রাজনৈতিক লাভের জন্য টিভিকে কখনোই বিজেপির সাথে হাত মেলাবে না। আদর্শিক শত্রু বা বিভাজনকারী শক্তির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো জোট না করার অবস্থানে দলটি অটল রয়েছে। দলটি ডিএমকে এবং বিজেপি উভয়ের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেবে।'

তার দলের ইশতেহারে তরুণ, নারী ও মৎস্যজীবীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলটি মৎস্যজীবীদের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় ২৭ হাজার টাকা সহায়তা, ভর্তুকি মূল্যে ডিজেল, বীমা ও আবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি থেকে পিএইচডি পর্যন্ত ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন শিক্ষা ঋণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য বছরে ছয়টি বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার, মাসিক সহায়তা ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবাহ সহায়তায় আট গ্রাম সোনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিবাজি গণেশন, বিজয়কান্ত ও কামাল হাসানের মতো তারকাদের পথ থেকে আলাদা হয়ে বিজয় ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেই রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি এমজিআর ও সি এন আন্নাদুরাইয়ের সাফল্য পুনরাবৃত্তি করতে চান। 

তিনি ‘হুইসেল বিপ্লব’-এর ডাক দিয়েছেন, যেখানে বাঁশি তার দলের প্রতীক। এখন সবার নজর ফলাফলের দিকে—তামিলনাড়ুর মানুষ কি তাকে নতুন নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে, নাকি তারকা খ্যাতি রাজনীতির কঠিন পরীক্ষায় আটকে যাবে।

সূত্র: এনডিটিভি 

দেশে এলো যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার…
  • ০৪ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন: ১৬৯ আসনের ফল প্রকাশ, এগিয়ে …
  • ০৪ মে ২০২৬
রোমানিয়ায় বিনা খরচে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কোর্স করার সুযোগ
  • ০৪ মে ২০২৬
এক শিক্ষক দিয়ে চলছে গোবিপ্রবির ট্যুরিজম বিভাগ, ৪৮ ঘণ্টার আল…
  • ০৪ মে ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় না থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না ভর…
  • ০৪ মে ২০২৬
স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহের পাশে চিরকুট, ‘খুব ইচ্ছে ছিল বাব…
  • ০৪ মে ২০২৬