বিধানসভা © সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির এই নির্বাচনী লড়াইয়ের ফলাফল আজই নির্ধারণ করবে ভারতের রাজনীতিতে বিজেপির একক আধিপত্য আরও জোরালো হবে, নাকি আঞ্চলিক দলগুলো নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রেখে ঘুরে দাঁড়াবে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৩ জেলার ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে গণনা শুরু হওয়ার পর দুপুরের মধ্যেই বোঝা যাবে এই রাজ্যের মসনদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন ঘটছে নাকি বিজেপি নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় জয়ের জন্য ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে এখানে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল উঠে এসেছে। পি-মার্কের সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জিতে বিজেপি একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারে, যেখানে তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। তবে পিপলস পালস-এর সমীক্ষায় উল্টো চিত্র দেখা গেছে; তাদের মতে ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরতে পারে এবং বিজেপি পেতে পারে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন।
পশ্চিমবঙ্গের বাইরে আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো বিজেপির হাতে শাসনভার যাওয়ার জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। ১২৬ আসনের এই রাজ্যে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬৪ আসন, যেখানে বুথফেরত জরিপ বলছে বিজেপি ৮৮ থেকে ১০০টি আসনে জয় পেতে পারে।
অন্যদিকে কেরালায় ১৪০ আসনের মধ্যে সরকার গড়তে ৭১টি আসন প্রয়োজন। সেখানে ক্ষমতাসীন বাম জোটকে পেছনে ফেলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ৭৮ থেকে ৯০টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসন প্রয়োজন। সেখানে ডিএমকে ৯২ থেকে ১১০টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও অভিনেতা থালাপাতি বিজয়ের দল টিভিকে ৯৮ থেকে ১২০টি আসনে জয় পেয়ে বড় চমক দেখাতে পারে বলে কিছু জরিপে উঠে এসেছে।
এছাড়া পুদুচেরির ৩০টি আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ১৬ থেকে ১৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। এই ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের সামগ্রিক রাজনীতিতে একদিকে যেমন বিজেপি শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক শক্তিগুলোও মরণপণ লড়াই চালাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের আগে জয়-পরাজয় নিয়ে সংশয় কাটছে না, কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বুথ ফেরত জরিপ জয়-পরাজয়ের আসল মাপকাঠি নয়, কেবল জরিপ মাত্র।’