প্রতীকী ছবি © ফাইল ছবি
নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা’ সচল রাখা এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী ও অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরকে সহায়তার অভিযোগে ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, তার মন্ত্রণালয়ের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো কোন দেশের, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে থেকেই ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং সেখান থেকে আয়ও করছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ইরান একটি ‘ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা’ গড়ে তুলেছে, যার মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষ ব্যবহার করে বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে তেল বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জমা রাখা হয় এবং পরে তা দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে স্থানান্তর করা হয়।
ইরানের তেল বাণিজ্য ও বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং তাদের অভিজাত ইউনিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মূলত এই তৃতীয় পক্ষের অংশ হিসেবে কাজ করে, যারা আড়ালে থেকে তেল বিক্রির অর্থ ইরান সরকার, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও আইআরজিসির কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।
গত কয়েক বছর ধরেই ইরানের তেল বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন করে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। [সূত্র: রয়টার্স]