ইরান যুদ্ধের শুরুতে আরব আমিরাতকে ‘আয়রন ডোম’ সরবরাহ করেছিল ইসরায়েল

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৫ AM
আয়রন ডোম ও দুই দেশের প্রেসিডেন্ট

আয়রন ডোম ও দুই দেশের প্রেসিডেন্ট © সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) একটি ‘আয়রন ডোম’ এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারি এবং এটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সদস্য সরবরাহ করেছে। দুজন ইসরায়েলি ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম আক্সিওস এই তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সামরিক, নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সমন্বয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে ইসরায়েলি ‘আয়রন ডোম’ ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টি এর আগে কখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই অঞ্চলে ইরানের পাল্টা আক্রমণের মুখে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ইরানের দাবি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আমিরাতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখন পর্যন্ত আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ২,২০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সংযুক্ত আরব আমিরাত তার মিত্রদের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য হয়।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, আমিরাতি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে ফোনালাপের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সে দেশে আয়রন ডোম ব্যাটারি এবং কয়েক ডজন সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এটিই প্রথম যে ইসরায়েল তার ‘আয়রন ডোম’ ব্যবস্থা দেশের বাইরে পাঠাল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই প্রথম এই সিস্টেমটি কোথাও সচল করা হলো। সামরিক বাদেও রাজনৈতিকভাবে দুই দেশের সম্পর্ক অনেক শক্তিশালী হয়েছে। এমনকি দক্ষিণ ইরানে আমিরাত লক্ষ্য করে মোতায়েন করা স্বল্প পাল্লার মিসাইলগুলো উৎক্ষেপণের আগেই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সেখানে একাধিক অভিযান চালিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিকভাবে বেশ সংবেদনশীল একটি বিষয়। অন্যদিকে, ইসরায়েল যখন নিজেই যুদ্ধের মুখে, তখন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সম্পদ অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ভেতরেও সমালোচনার জন্ম দিতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য তারেক আল-ওতাইবা এক নিবন্ধে লিখেছেন, 'সংকটকালে ইসরায়েল আমিরাতকে প্রকৃত সহায়তা দিয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'সামরিক সাহায্য, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং কূটনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের “প্রকৃত বন্ধু” হিসেবে প্রমাণ করেছে।'

গাজায় গণহত্যা এবং লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে আগ্রাসনের অভিযোগে ইসরায়েল যখন বিশ্বজুড়ে কোণঠাসা, তখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধের নৃশংসতার জন্য বিশ্বের অনেক দেশ ইসরায়েলের নিন্দা জানালেও আবুধাবি ইসরায়েলকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই বিবেচনা করছে।

ঢাবির বিশেষ মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ আজ, দেখবেন যেভাবে
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
আজ যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সিগারেট ধরাতে নিষেধ করায় রাবিতে বহিরাগত এনে সিনিয়রকে ‘মারধর…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
এআই চ্যাটে কিশোররা কী করছে, দেখতে পারবেন অভিভাবক
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
একসঙ্গে প্রাণ হারালেন মা ও দুই মেয়ে
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬