বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ AM
নিহত লিমন ও নিখোঁজ বৃষ্টি

নিহত লিমন ও নিখোঁজ বৃষ্টি © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে গত শুক্রবার ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গভীর শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে। লিমনের মরদেহ পাওয়া গেলেও তার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া ২৭ বছর বয়সী অন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তার সন্ধানে তদন্তকারীরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইউএসএফ-এর প্রেসিডেন্ট মোয়েজ লিমায়েম একটি ইমেইলের মাধ্যমে জামিল লিমনের মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়া নামের একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত হিশাম ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক শিক্ষার্থী এবং লিমনের রুমমেট ছিলেন।

এই ট্র্যাজেডি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে যখন সামনেই ফাইনাল পরীক্ষা এবং গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। জুনিয়র শিক্ষার্থী এলি পাওয়েল তার মানসিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'আমি ফাইনাল পরীক্ষার জন্য পড়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু এই খবরটি আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। পড়ার টেবিলে মন বসানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।' 

স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী লুয়ানা কোটশো তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক ভালোবাসি এবং নিজেকে এখানে খুব নিরাপদ মনে করতাম। গ্র্যাজুয়েশনের ঠিক আগে এমন কিছু ঘটবে, তা ভাবিনি।'

লিমন ক্যাম্পাসের উত্তরের 'অ্যাভালন হাইটস' অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। তার প্রতিবেশী মেগান ম্যাকডোনাল্ড এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, 'প্রথমে মনে হয়েছিল তারা হয়তো কোথাও চলে গেছেন, কিন্তু পরে যখন ঘটনার গুরুত্ব বুঝলাম, তখন ভাষা হারিয়ে ফেললাম। এটা একজনের মূল্যবান জীবন ছিল।'

নিখোঁজ ও মৃত দুই শিক্ষার্থীই বাংলাদেশি হওয়ায় ইউএসএফের আন্তর্জাতিক ছাত্র সম্প্রদায়ের মাঝে এই ঘটনা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। ব্রাজিল থেকে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কোটশো তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, 'আমার মন তাদের পরিবারের জন্য কাঁদছে। আমি আশা করি তারা দ্রুত বিচার পাবেন এবং এমন ঘটনা যেন আর কখনোই না ঘটে।'

এই কঠিন সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইউএসএফ কর্তৃপক্ষ বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বা কাউন্সিলিং সার্ভিস চালু করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য 'টাইমলি কেয়ার' (TimelyCare)-এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে অথবা সরাসরি ক্যাম্পাসে গিয়ে সাহায্য নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মীদের সহায়তার জন্য এমপ্লয়ি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (EAP) সচল রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ নিয়ে ভ্রমণ সতর্কতা কানাডার
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হলেন বিএনপি নেতা মিফতাহ্ সিদ্দিকী
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে ট্রাস্ট ব্যাংক
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
একাদশে ভর্তির সময়সূচি নিয়ে কী বলছে শিক্ষা বোর্ড
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
১৬ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে নতুন অধ্যক্ষ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬