ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে ডোনাল্ড ট্রাম্প একসঙ্গে দুটি পথ খোলা রাখছেন?

২৭ মার্চ ২০২৬, ০২:২৪ PM
ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প © সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে বলেই আপাতভাবে মনে হচ্ছে। তার ভাষায় অবশ্য এ যুদ্ধ ‘ধীরে ধীরে শেষ করা’।

তবে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কোন কৌশল তিনি নিচ্ছেন, তা এখনও অস্পষ্ট। তিনি একেকবার একেকরকম কথা বলছেন, যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি নিজেই এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি যে ঠিক কোন কৌশলটা সব থেকে ভালো কাজে আসবে; সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করা, না কি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধানে পৌঁছানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা।

মঙ্গলবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে দুটি কৌশলই নিতে পারে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেয়, আবার মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সরকারের সামনে একটি নতুন ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করে।

বুধবার হোয়াইট হাউস ইরানের প্রতি আহ্বান জানায় যাতে ওই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করে। একই সঙ্গে এই হুমকিও দেওয়া হয় যে, ওই শান্তি পরিকল্পনায় রাজি না হলে দেশটির ওপরে কঠোরতম হামলা চালানো হবে।

এর ফলেই ট্রাম্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা এবং হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এমন বাইরের কিছু মিত্ররা জানিয়েছেন যে, সংঘর্ষ বৃদ্ধির মধ্যেই প্রশাসনের অভ্যন্তরে উদ্বেগ বাড়ছে যে এর পরে যে কী হবে, তা নিয়ে ট্রাম্পের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।

‘ওরা খুবই অস্বস্তিতে আছে, কারণ এটা স্পষ্ট যে ট্রাম্প এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবেননি,‘ বলছিলেন এমন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি ট্রাম্প প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তার প্রশাসনে কাজ করেছিলেন। ওই সাবেক কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ করতে দিতে অনিচ্ছুক।

বুধবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুয়া আশ্বাস দেন না, তিনি চরম আঘাত হানতে প্রস্তুত। ইরান যেন আবারও ভুল না করে।‘ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে যে আসলেই দেশ দুটি গুরুতর কূটনৈতিক আলোচনায় জড়িত কিনা।

যে যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে আর যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্ট করেছে, সেই সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প যে সব বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেটাই অবশ্য তার কাজের স্বভাবসিদ্ধ ধরণ।

হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, ইরানের ঘটনাবলিতে যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারক শক্তি। কিন্তু ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে যে, এই সংঘাত কোন দিকে যাবে, তা ট্রাম্পের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই।

হরমুজ প্রণালির সুরক্ষা কি নিশ্চিত করা যাবে?
যুদ্ধের থেকে ট্রাম্প যে সব বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন করতে চেয়েছিলেন, তার বাইরেও এই প্রশ্নের জবাব এখনও নেই যে কীভাবে হরমুজ প্রণালির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সমুদ্র পথ দিয়েই বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে।

যুদ্ধের তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলির ওপরে ইরানের হামলা কীভাবে বন্ধ করা যেতে পারে, সেই প্রশ্নের কোনও জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনও নেই। এর ফলে তেল ও গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার নেটোর মিত্রদেশগুলি ও অন্যদের প্রতি ট্রাম্প সাহায্যের জন্য যে আহ্বান করেছিলেন, তাতেও কেউ সাড়া দেয়নি।

প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করা স্টিফেন হ্যাডলি বলছিলেন, ‘প্রেসিডেন্টের জন্য সমস্যা হলো হরমুজ প্রণালি। তিনি যদি এটি ইরানের হাতে ছেড়ে রাখেন, তবে তার পক্ষে বিজয় দাবি করা কঠিন হবে।‘

তার কথায়, ‘অন্যান্য দেশের সঙ্গে পরামর্শ করতে ট্রাম্পের ব্যর্থতার কারণে এখন মিত্রদের সাহায্য পেতে প্রশাসনের এত সমস্যা হচ্ছে।‘

প্রশাসনের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায় নিয়ে ওয়াশিংটনে অনিশ্চয়তা বুধবার আরও বেড়ে যায়।

স্পিকার মাইক জনসন ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের বলেন যে, তিনি মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে নিচ্ছে‘। তার কথায়, ‘আমি মনে করি একটা সংক্ষিপ্ত নির্দেশ জারি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।‘ হোয়াইট হাউস যে আত্মবিশ্বাসী, জনসনের কথায় তার প্রতিফলন পাওয়া যায়।

স্থল সেনা পাঠানো নিয়ে রিপাবলিকানরাই দ্বিমত
ইরানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর যে ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছেন, এমন খবরে তার রিপাবলিকান পার্টিরই কয়েকজন সহকর্মী প্রকাশ্যই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং থেকে বেরিয়েই সাউথ ক্যারোলিনার কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘ইরান নিয়ে হাউস আর্মড সার্ভিসেস ব্রিফিং থেকে সবেমাত্র বেরিয়ে এসেছি। আমি আবারও বলতে চাই : আমি ইরানে স্থল সেনা পাঠানো সমর্থন করব না, এই ব্রিফিংয়ের পরে তো আরও নয়,‘ মিজ. মেস সামাজিক মাধ্যম এক্সের একটি পোস্টে লিখেছেন।

‘পরিকল্পনার ছাপ দেখতে পাচ্ছি না‘
শান্তি পরিকল্পনায় ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার অনুমতি দেওয়ার মতো দাবিগুলি রয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজা ভূখণ্ড এবং ইউক্রেনে মার্কিন মধ্যস্থতা চালিয়েছিলেন যে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার – তারাই এখন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওই দুই ক্ষেত্রে যে ধরনের শান্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে এবারে দেওয়া শান্তি প্রস্তাবগুলোর মিল আছে। ব্যবহার করেছেন তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল।

ইরানের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, তেহরান বিশ্বাস করে যে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় যুদ্ধের গতিপথের উপর তাদের সমান, অথবা বেশই নিয়ন্ত্রণ তাদের রয়েছে। যদিও ট্রাম্প জোর দিয়েই বলছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য তেহরানের নিজস্ব দাবি রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধ কখন বন্ধ হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে এবং তার নিজস্ব শর্ত পূরণ করেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।‘

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পশ্চিমা জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ইরানের নেই।

হোয়াইট হাউস হয়ত ভাবছে যে ইরানে স্থল সেনা পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য ইরানের ওপরে চাপ দিতে পারবে এবং শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করাতে বাধ্য করতে পারবে। তবে ৮২ এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সীমিত সংখ্যক সেনা পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালীর ওপরে কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, নাকি সংঘাতের বৃহত্তর গতিপথই পাল্টে দিতে পারবে ওই বাহিনী, তা স্পষ্ট নয়।

বারাক ওবামার প্রশাসন এবং মি ট্রাম্পের প্রথম দফায় কাজ করেছেন, এমন একজন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জেসন ক্যাম্পবেল বলছেন, স্থল সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধ আরও বাড়িয়ে তোলার মাধ্যমেই প্রমাণ পাওয়া যায় যে যুদ্ধের জন্য প্রশাসনের ‘কোনও স্পষ্ট কৌশল নেই‘।

তিনি বলেন, ‘স্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে, দীর্ঘ চিন্তাভাবনা করে নেওয়া কোনো পরিকল্পনার ছাপ আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি না।‘ [সূত্র: বিবিসি বাংলা]

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চলতি সপ্তাহেই
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে পিএসসির সঙ্গে আলোচনা চলছ…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্র‍্যাকের পৃষ্ঠপোষকতায় ইবিতে স্থাপিত হচ্ছে ‘ক্যারিয়ার হাব’
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা ও পুষ্টি নিশ্চিত অত্যন্ত…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারিকরণের ৮ বছর পর ৫ শিক্ষককে এডহক নিয়োগ দিল মন্ত্রণালয়
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্র্যাক কুমনে ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগ
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9