শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা, যা বলছে আনন্দবাজার পত্রিকা

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫২ PM
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলীয় নেতারা

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলীয় নেতারা © সংগৃহীত

প্রথমবারের মত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান । এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার পত্রিকা ‘ভাষা দিবসে প্রথম বার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান! কেন গেলেন, দিলেন সেই ব্যাখ্যাও’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাষা দিবসে শহীদ মিনারে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানালেন সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং সে দেশের বিরোধী দলনেতা শফিকুর রহমান। এই প্রথম জামায়াতের কোনো আমির তথা শীর্ষনেতা ভাষা দিবসে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানালেন। কেন তিনি সেখানে গেলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শফিকুর। তিনি জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার’ হিসাবে তিনি সেখানে গিয়েছেন। এটা তাঁর দায়িত্ব।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরে এই প্রথম বার শহিদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান শফিকুর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের কয়েক জন শীর্ষ নেতা এবং জোটশরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেই নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা। অনেকেই মনে করিয়ে দেন, এই রীতিকে জামায়াত নেতারা ‘ইসলাম-বিরোধী’ বলতেন। তা হলে কেন সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে গেলেন জামায়াত আমির শফিকুর। শহিদ মিনারে ফুল দেওয়ার পরে তাঁকে এই প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত বছর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর রীতি পালন করা হলেও আগের উৎসাহ ছিল না; ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। রাষ্ট্রপতির সেখানে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে যাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছিল টানাপোড়ন। শেষ পর্যন্ত তিনি গিয়েছিলেন। গিয়েছিলেন ইউনূসও।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বার রাষ্ট্রপতি আগে এসে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাননি। তিনি পুষ্পস্তবক দিয়ে চলে যাওয়ার পরে শনিবার গভীর রাতে সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিবিসি বাংলার বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন বলা হয়, প্রথম বার ‘দোয়া, মোনাজাত’-এর মতো আচারে অংশ নিয়েছেন তারেক। তার পরে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসাবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন তাঁর স্ত্রী এবং কন্যাও। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরে শহিদ মিনারের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

শনিবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ভাষা শহিদের আগে ১৯৪৭ সালে (পাকিস্তান যখন তৈরি হয়) যাঁরা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। ১৯৫২ সালের শহিদদের স্মরণ করি, একাত্তরের শহিদদের স্মরণ করি। ৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করি, সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যাঁরা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, বিশেষ করে যাঁরা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করি। শেষপর্যন্ত আমাদের ওসমান হাদিকে আমরা স্মরণ করি।

আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, এ বছরও জামায়াতের তরফে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের কোনও কর্মসূচি নেই। বিরোধী দলনেতা হিসাবে শফিকুর যে সেখানে যাবেন, তা আগেই জানিয়েছিল দল। শহিদ মিনারে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, জামায়াত এই পুস্পস্তবক অর্পণকে কি এখনও ‘অনুচিত’ মনে করে? জবাবে শফিকুর বলেন, ‘‘এ সব প্রশ্ন আজ কেন?’’

সুন্দরবনের দস্যু দমনে অচিরেই বিশেষ অভিযান: প্রতিমন্ত্রী শেখ…
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘তুই নূর না?’—১৭ বছর পরও তারেক রহমানের স্মৃতিতে পুরোনো মুখ
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপির তিন নেতার জন্য দুঃসংবাদ
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাবির কবি সুফিয়া কামাল হলে কুইজ প্রতি…
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন দিনের আশা জাগাচ্ছে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল?
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬