বর্ষার মাঝেও তাপের দহন © এআই সম্পাদিত ছবি
বর্ষা মৌসুম চললেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে এখনই স্বস্তি মিলছে না। স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বর্ষাতেও তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়াবিদদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আপাতত বড় ধরনের তাপপ্রবাহের আশঙ্কা না থাকলেও বৃষ্টির ঘাটতি থাকলে গরমের অস্বস্তি অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতির প্রভাবে চলমান এল নিনো ধাপ নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যার সামান্য প্রভাব বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও পড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ ছাড়া দেশের প্রায় সব বিভাগেই জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। এ মাসে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৭২ মিলিমিটার, যেখানে জুন মাসে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ৪৫৯ মিলিমিটার। ফলে এ পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ১৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আজ ভারী বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত কিংবা তাপপ্রবাহের কোনো সতর্কতা নেই। পরশু কয়েকটি এলাকায় তাপপ্রবাহ ছিল, তবে গতকাল থেকে তা কেটে গেছে। তবে বর্ষা মৌসুমেও এমন পরিস্থিতি দেখা দিতেই পারে।’
বর্ষাকালে তাপপ্রবাহ বা তীব্র গরমের কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘অনেকের ধারণা বর্ষাকালে তাপপ্রবাহ হয় না। কিন্তু বাস্তবে বৃষ্টিপাত কম হলে বা বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি তৈরি হলে বর্ষাতেও তাপপ্রবাহ হতে পারে। জুন মাসে সূর্য বাংলাদেশের প্রায় মাথার ওপর অবস্থান করে। এ সময় নিয়মিত বৃষ্টি হলে আকাশ মেঘলা থাকে এবং তাপমাত্রা কমে যায়। কিন্তু বৃষ্টি কমে গেলে সূর্যের তাপ সরাসরি ভূমিতে পড়ে, ফলে গরমের তীব্রতা বেড়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘এ বছর জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। এ কারণে অনেক এলাকায় ভ্যাপসা গরম ও তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
জুন মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে ড. ওমর ফারুক বলেন, ‘এল নিনো একটি কারণ হতে পারে। বর্তমানে বিশ্ব এল নিনো ধাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব খুব বেশি নয়, তবে সামান্য প্রভাব রয়েছে। বৈশ্বিক এই পরিস্থিতির কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।’
এল নিনো পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর পর্যন্ত এল নিনো পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।’
আরও পড়ুন : নেই শিক্ষক, সংকট কম্পিউটারের, এক যুগেও পূরণ হয়নি আইসিটি শিক্ষার ঘাটতি
এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সর্বশেষ মৌসুমি পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বৈশ্বিক আবহাওয়ায় এল নিনো-সংশ্লিষ্ট প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি এবং বৃষ্টিপাতের ধরণে তারতম্য দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও এর প্রভাব অনুভূত হতে পারে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও তা খুব বেশি বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে আপাতত ভ্যাপসা গরম থেকে দ্রুত স্বস্তি মিলছে না। তবে মৌসুমি বৃষ্টি বাড়তে শুরু করলে তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।