আজ বিশ্ব হাতি দিবস

মানুষ–হাতি দ্বন্দ্বে প্রাণহানি অব্যাহত

১২ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪০ AM , আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১০ AM
পাহাড় পাদদেশে হাতির দল

পাহাড় পাদদেশে হাতির দল © মুগনিউর রহমান

বিশ্ব হাতি দিবসের আলোয় হাতি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার কথা সবাই স্মরণ করে। কিন্তু শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় পাদদেশে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে ভয়াবহ মানুষ–হাতি দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ, আবার মানুষের প্রতিরোধে মরছে বন্যহাতি। তবে নেই কোনো স্থায়ী সমাধান।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৭০–৮০টি বন্যহাতির দল বসবাস করছে। ২০০০ সালের দিকে ভারত থেকে খাদ্যের সন্ধানে আসা কয়েকটি হাতি থেকে এ সংখ্যা বেড়ে এ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অঞ্চলের মুসলিম, গারো, হাজং, কোচ, বানাই বর্মন ও হিন্দুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ কৃষি ও শ্রমজীবন নিয়ে বসবাস করেন। তাদের জীবন ও জীবিকা হাতির তাণ্ডবে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

গ্রামবাসীরা জানান, হাতির দল দিনে গভীর অরণ্যে থাকে। সন্ধ্যা নামলেই খাদ্যের খোঁজে তারা লোকালয় ও ফসলি জমিতে আসে। রাতভর তারা হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ঢাক–ঢোল পিটিয়ে, পটকা ফুটিয়ে ও মশাল জ্বালিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হন না। পালাক্রমে হাতি বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে।

পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের কৃষক উকিল উদ্দিন, এরশাদ আলম ও বাদশা মিয়া জানান, ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক জটিলতা পোহাতে হয়। পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ জমি ‘খ’ তফসিলভুক্ত হওয়ায় রেকর্ড না থাকলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। অনেকেই বছরের পর বছর ঘুরেও ক্ষতিপূরণ পান না।

২০১৬ সালে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ১৩ কিলোমিটার এলাকায় সোলার ফেন্সিং (বৈদ্যুতিক তারের বেড়া) স্থাপন করা হলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় তা কার্যকর হয়নি।

শেরপুর জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর গারো পাহাড় এলাকায় হাতির হামলায় ৪২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। একই সময়ে মারা পড়েছে ৩৩টি বন্যহাতি। বনবিভাগ ২৫টি ‘এলিফেন্ট রেসপন্স টিম’ (ইআরটি) গঠন করলেও সরকারি সুযোগ–সুবিধার অভাবে তাদের কার্যক্রম স্থবির।

মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, স্থায়ী সমাধান এখনও নেই। তবে হাতির খাদ্যের সংকট মেটাতে কলাগাছসহ বিভিন্ন গাছ লাগানো হচ্ছে, যাতে তারা লোকালয়ে কম আসে। হাতির জন্য করিডর তৈরির প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা, পর্যাপ্ত খাদ্যভাণ্ডার ও নিরাপদ করিডর ছাড়া এই দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

গোপালগঞ্জে বাস-কনটেইনার সংঘর্ষে পথচারী নিহত
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে চুয়েট শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষ…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি দেবে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেপরোয়া গতির বিলাসবহুল গাড়ি কাড়ল ফুটপাতে বিশ্রামরত শ্রমিকের…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বারহাম সালিহর উচ…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৭ বিএনপি নেতাকে উমরাহ পালনে পাঠালেন এমপি বাবর
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬