নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে ঢাবির প্রথম ছাত্রী লীলা নাগের পৈতৃক ভিটা

১১ জুন ২০২১, ০৭:১২ PM
লীলা নাগের ভিটামাটির চিহ্ন মুছে যাওয়ার পথে

লীলা নাগের ভিটামাটির চিহ্ন মুছে যাওয়ার পথে © সংগৃহীত

আজ (১১ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রথম ছাত্রী লীলা নাগের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। তার হাত ধরেই ঢাবিতে নারী শিক্ষার সূচনা হয়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবী অগ্নিকন্যা, বাংলার নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ তিনি।

লীলা নাগ আসামের গোয়ালপাড়ায় ১৯০০ সালের ২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট। মা কুঞ্জলতা ছিলেন গৃহিণী।

লীলার বাবার বাড়ি ছিল মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে, পাঁচগাঁওতে। ১৯১৬ সালে বাবা অবসরগ্রহণ করার পর তিনি স্থায়ীভাবে বাস করার জন্যে আসাম থেকে ঢাকায় চলে আসেন।

তার পৈতৃক ভিটায় কিছুদিন আগেও ঘরের একটি কাঠামো দাঁড়ানো ছিল। সেখানে এখন কেবলই ভেজা মাটির একটি শূন্য ভিটা পড়ে আছে। তাতে কিছু লাল রঙের ইটের সুরকি ছড়ানো। ভিটার মধ্যে গজিয়ে ওঠেছে কিছু গুল্মলতা। ভিটামাটির চিহ্ন মুছে যাওয়ার পথে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লীলা নাগের পিতা গিরিশ চন্দ্র নাগের আমলে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ভিটার পশ্চিম অংশে একটি পাকা টিনের ঘর। যাঁরা এখন বাড়িটিতে বাস করছেন, সেটা তাঁদের। কিছুদিন আগে মৌসুমি ঝড়ে ভিটায় দাঁড়িয়ে থাকা ঘরটির অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ভিটার পাশেই শতবছরের পুরোনো কড়ইগাছটি বিশাল শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। 

জানা গেছে, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁওয়ে ছিল লীলা নাগের বাবার বাড়ি। তাঁর বাবা গিরিশ চন্দ্র নাগ আসামের গোয়ালপাড়া মহকুমার প্রশাসক ছিলেন। সেখানে ১৯০০ সালের ২ অক্টোবর লীলা নাগের জন্ম। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা কলকাতা ব্রাহ্ম স্কুলে, মাধ্যমিক ঢাকার ইডেন গার্লস স্কুলে। কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বিএ (সম্মান) ইংরেজিতে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী। বিপ্লবী ও দার্শনিক অনিল রায়ের সঙ্গে ১৯৩৯ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৩৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া নামে জাগরণের বাণী বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে দিতে বের করেন ‘জয়শ্রী’ পত্রিকা। তাঁর পৈত্রিক ভিটার একাংশে মা কুঞ্জলতা দেবী চৌধুরীর নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে এটি কুঞ্জলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭০ সালের ১১ জুন লীলা নাগ মারা যান।

বাড়ির বর্তমান বাসিন্দা কুঞ্জলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল মুনিম চৌধুরী ও তাঁর পরিবার। এই পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সাল থেকে তাঁরা এ বাড়িতে বাস করছেন। আবদুল মুনিমের বাবা আলাউদ্দিন চৌধুরী বাড়িটি জেলা প্রশাসন থেকে ৪৫ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছিলেন। এর আগে বাড়িটি ছিল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়। এরপর আবারও ইজারার জন্য ২০১৫ সালে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ইজারার জন্য হাইকোর্টে একটি মামলাও করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাউদ্দিন চৌধুরী ২০১৩ সালে মারা গেছেন। বাড়িতে বর্তমানে একটি পুকুরসহ ১ একর ৬৫ শতক ভূমি আছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় লীলা নাগের বাড়ির লোকজন তখনকার পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমান।

আবদুল মুনিম চৌধুরীর বৃদ্ধা মা শামসুন্নাহার চৌধুরী জানান, লীলা নাগের পৈতৃক ভিটার ঘরটি কিছুদিন আগে ঝড়ে ভেঙে পড়েছে। ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা এ বাড়িতে আছেন। বাড়ি নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা আছে।

লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি কবি ইন্দ্রজিৎ দেব বলেন, লীলা নাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে এই বাড়িকে সংরক্ষণ করা দরকার। বাড়িটিতে শিল্প-সংস্কৃতির একটি প্রতিষ্ঠান করা যেতে পারে। পাঠাগার করা যেতে পারে। একটি মিলনায়তন হলে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলতে পারে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, বাড়িটি নিয়ে একটি মামলা আছে। লীলা নাগের মৃত্যুদিনকে সামনে রেখে কিছু একটা করার চিন্তা মাথায় ছিল। কিন্তু কোর্ট বন্ধ থাকাসহ বিভিন্ন কারণে সেইভাবে কাজ আগানো যায়নি।

ইট-বোতল-ভাঙা আয়না দিয়ে বাসের সিট দখল, কুবি শিক্ষার্থীদের ক্…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, কলেজশিক্ষক সাময়িক ব…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী আর নেই
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত তানভীরের আর যোগ দেওয়া হলো না, রেললাই…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে যুবককে মারধর, ১০ লাখ টাকা দাবি, ইউনিয়…
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬