উপাচার্য লুকোচুরি খেলছেন, অভিযোগ রাবির প্রগতিশীল শিক্ষকদের!

উপাচার্য লুকোচুরি খেলছেন, অভিযোগ রাবির প্রগতিশীল শিক্ষকদের!
  © টিডিসি ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির সঙ্গে লুকোচুরি খেলছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন কমিটির দুই -তৃতীয়াংশ সদস্য।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় ও উপাচার্য বাসভবনে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন কমিটির সদস্যরা।

এ সময় কমিটির সদস্যরা বলেন, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষকদের কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না। অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিলসহ ৯ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেই চিঠি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা শুরু করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্টিয়ারিং কমিটির নবনির্বাচিত সদস্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্যাহ বলেন, ‘আমরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য তাঁর অফিসে গিয়ে সচিবের সঙ্গে কথা বললে সচিব জানান, উপাচার্য অফিসে নেই, গাড়ি নিয়ে বাইরে গেছেন। কিন্তু আমরা জানতে পারি, উপাচার্য অফিসে না থাকলেও বাসভবনে রয়েছেন। সেখানেই তিনি নিচতলায় অফিস করছেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করা হলে সেখানেও আমাদেরকে জানানো হয়, উপাচার্য নিচতলায় নেই। তিনি উপর তলায় উঠে গেছেন। তিনি কোনো অফিসের কার্যক্রম করছেন না। তবে আমরা উপাচার্যের বাসভবনের নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, উপাচার্য নিচে বসেই অফিস করছেন এবং আমাদের সামনেই সেই অফিস থেকে কিছু ফাইল স্বাক্ষর করে নিয়ে আসা হয়েছে।’

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, এর আগেও উপাচার্য দলীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের সাথে ৫ এপ্রিলে দুপুর ১২টায় সিনেট ভবনে সাক্ষাৎ করবেন মর্মে জানান। এই লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ে তারা ১৬ জন সদস্য সিনেট ভবনে উপস্থিত হন। তখন তারা উপাচার্য অফিসে যােগাযােগ করে ৫ এপ্রিল দুপুর ১২টায় সিনেট ভবনে এ ধরনের কোনো সভার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না বলে তারা জানতে পারেন। এ ছাড়াও উপাচার্য দৈনিক কর্মসূচিতেও বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত ছিল না বলেও উপাচার্য দপ্তর থেকে তারা জানতে পারেন।

এ ছাড়াও করোনাকালে লকডাউন থাকলেও উপাচার্য মেয়াদের শেষ সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অ্যাডহক নিয়োগ দেবেন বলেও আশঙ্কা করছেন কমিটির সদস্যরা।

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা বলেন, উপাচার্য মহোদয় আমাদের সঙ্গে এমন লুকোচুরি খেলে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের বিশ্বাসী ৬৮৮ জন শিক্ষকেই অপমান করছেন।

তবে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরী জাকারিয়া এবং রেজিস্টার অধ্যাপক আবদুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কমিটির সদস্যরা।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা কিছু দাবি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু কোন একটা কারণে তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। কমিটির সদস্যরা তাদের দাবিগুলো আমার কাছে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, মাননীয় উপাচার্য স্যারকে যেন আমি এই দাবির বিষয়গুলো জানাই।’

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ